শ্রীলঙ্কার কাছে ইনিংস ও ৭৮ রানে হার বাংলাদেশের

New-Project-9-7.jpg
২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

তৃতীয় দিন শেষে যে আশঙ্কা ঘনীভূত হয়েছিল, চতুর্থ দিন সকালেই তা বাস্তবে রূপ নিলো। কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেন পরাজয়ের গর্তে পড়ার জন্যই নামলেন মাঠে। মাত্র ৩৪ বল টিকতে পারল না দ্বিতীয় ইনিংসের বাকি উইকেটগুলো। ফলে শ্রীলঙ্কার কাছে ইনিংস ও ৭৮ রানে লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হলো বাংলাদেশকে।

চতুর্থ দিন সকালে বাংলাদেশ খেলতে নেমেছিল ৬ উইকেটে ১১৫ রান নিয়ে। ইনিংস হার এড়াতে তখনো প্রয়োজন ছিল ১০৩ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট। কিন্তু প্রবাত জয়াসুরিয়ার ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৮ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় পুরো ইনিংস।

গলে নিশ্চুপ থাকা জয়াসুরিয়া কলম্বোয় এসে দারুণভাবে জ্বলে উঠেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। বাংলাদেশের ইনিংস যখন ভেঙে পড়ছে, তখন ইনিংসের শেষ দিকে ওভারের শেষ বলে এক রান নিতে গিয়ে বোলার জয়াসুরিয়ার হাতেই ধরা পড়েন তাইজুল ইসলাম। এর আগে ৪২তম ওভারে তাঁর তৃতীয় বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ৮ বলে মাত্র ৫ রানে আউট হন নাঈম হাসান। আর চতুর্থ দিনের শুরুতেই ৪ বল খেলে আউট হয়ে যান লিটন দাস, তিনি করেন ৪৩ বলে ১৪ রান। এ অবস্থায় বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ১৩৩/৯।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১১৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তখন থেকেই ইনিংস হার এড়ানোর লড়াইয়ে ছিল দলটি। কিন্তু চতুর্থ দিনে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে সেই আশাও ফিকে হয়ে যায়। ম্যাচে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে পিছিয়ে আছে ৮৫ রানে। আগের দিনই উইকেটকিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ২৬ রান করে বোল্ড হন জয়াসুরিয়ার বলে। এরপর তাইজুলের সঙ্গে লিটনের ৩০ রানের ছোট জুটি গড়লেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

এর আগে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে করে ৪৫৮ রান। সেই ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাইজুল ইসলাম, তিনি ৫টি উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ২৪৭। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসেও তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি ব্যাটাররা। সাদমান ইসলাম করেন সর্বোচ্চ ৪৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে একইভাবে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। এনামুল হক, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিক, মিরাজ—সবাই ফিরেছেন ছোট ছোট ইনিংস খেলে। স্পিনে বিভ্রান্ত হয়েছেন প্রায় সবাই।

তৃতীয় দিনের সকালে কিছুটা সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু এরপর থেকে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। পাতুম নিশাঙ্কা ১৫৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন, সঙ্গে ছিলেন চান্ডিমাল (৯৩), কুশল মেন্ডিস (৮৪)। এই তিন ব্যাটার মিলে লঙ্কানদের বড় লিড এনে দেন। সেই লিডের ভারে প্রায় গুঁড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।

ম্যাচের এই অবস্থা থেকে বাংলাদেশ কীভাবে ফিরে আসবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ইনিংস হার এড়ানোই এখন তাদের মূল লক্ষ্য, তবে হাতে মাত্র এক উইকেট। জয়াসুরিয়ার স্পিন তাণ্ডবে শেষটা কত দ্রুত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

scroll to top