বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা রাখার পরও ‘মামলা-বাণিজ্যের’ শিকার হয়ে প্রায় ১০ মাস ধরে কারাগারে আছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত জামিন ও চিকিৎসার দাবি জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশানের নিজ কার্যালয় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে দিলীপ আগরওয়ালা কারাগারে রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম হত্যা মামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বাদীরাও জানতেন না—তাঁর নাম চার্জশিটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, আন্দোলনের সময় দিলীপ আগরওয়ালার নির্দেশেই আন্দোলনরত ছাত্রদের খাবার, পানি ও ছাতা সরবরাহ করা হয়েছিল। তিনি কোনোভাবেই ওই আন্দোলনের বিরোধিতা করেননি।
দিলীপ আগরওয়ালার আইনজীবী ও পরিবার বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল। তাঁকে কারাগারে রেখে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তাঁর সরাসরি তদারকি অপরিহার্য।
স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও তিনি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও কিডনিজনিত সমস্যায় ভোগা দিলীপ আগরওয়ালা সম্প্রতি কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও তা নাকচ হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও, চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলীপ আগরওয়ালা দেশের স্বর্ণ ব্যবসার নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি পাঁচবার বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) এবং টানা ৯ বার খুলনা বিভাগের সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর মায়ের নামে গঠিত তারা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
করোনাকালে এসব এলাকায় মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার ও অর্থ সহায়তা প্রদানসহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।
পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, শারীরিক অসুস্থতা এবং দেশের অর্থনীতিতে তাঁর অবদানের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত তাঁর জামিন নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে মানবিক ও যৌক্তিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





