ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে? এই ৮টি ফল হতে পারে আপনার স্বপ্নের ওষুধ!

New-Project-25-1.jpg

এই ৮টি ফল হতে পারে আপনার স্বপ্নের ওষুধ!

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

রাতে ভালো ঘুম না হলে আপনি হয়তো মেডিটেশন, জার্নালিং কিংবা অন্যান্য পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখেছেন। তবে জানেন কি, আপনার খাবারের অভ্যাসও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে ঘুমের গুণমানের ওপর? যদিও অনেকে মনে করেন, রাতে ফল খেলে অ্যাসিডিটি বা হজমে সমস্যা হতে পারে, গবেষণা বলছে—সঠিক ধরনের ফল খাওয়া বরং ঘুমে সহায়ক হতে পারে।

রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান জেনিফার পালিয়ান ও রবিন ব্যারি কাইডেন জানিয়েছেন এমনই কিছু ফলের কথা, যেগুলোতে ঘুম বাড়ানোর মতো উপাদান—মেলাটোনিন, সেরোটোনিন ও ট্রিপটোফ্যান রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে।

১. কিউই

কিউই

ঘুম বাড়ানোর জন্য কিউইকে সেরা বলা চলে। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে দুইটি কিউই খেলে ঘুম আসা সহজ হয় এবং গভীর ঘুম হয়। পাশাপাশি এতে আছে ভিটামিন সি ও ফলেট, যা স্নায়বিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

২.

আনারস

 

আনারসেও রয়েছে মেলাটোনিন, সেরোটোনিন এবং ট্রিপটোফ্যান। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক কেজি আনারসের রস খাওয়ার পর শরীরে মেলাটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি দেহের সার্বিক ঘড়িকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাজা আনারসও এই উপকার দেয়।

৩. চেরি

চেরি

বিশেষ করে ‘মন্টমোরেন্সি চেরি’ প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন সমৃদ্ধ। এতে আছে ট্রিপটোফ্যান ও অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা স্নায়ু শিথিল করে এবং উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। রাতে ৮–১২ আউন্স চেরির রস বা ১–২ আউন্স কনসেন্ট্রেট খাওয়া উপকারী।

৪. অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, যা মেলাটোনিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং স্নায়ু শান্ত করে। এক গবেষণা বলছে, এক পূর্ণ অ্যাভোকাডো খাওয়াই যথেষ্ট। এটি হজমের উন্নতি করে ও শরীরকে আরাম দেয়।

৫. কলা

কলা

কলা হলো মেলাটোনিন ও ট্রিপটোফ্যানের চমৎকার উৎস। দুইটি কলা খেলে ঘুমে সহায়ক হয়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ঘুমে বিঘ্ন ঘটানো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

৬. আঙুর

আঙুর

লাল বা বেগুনি আঙুরে থাকে প্রাকৃতিক মেলাটোনিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও জলীয় উপাদান। এগুলো মানসিক চাপ কমায় এবং হজমে সহায়তা করে। রাতে এক কাপ আঙুর হতে পারে আদর্শ স্ন্যাক।

৭. স্ট্রবেরি

স্ট্রবেরি

স্ট্রবেরি সামান্য পরিমাণে মেলাটোনিন এবং প্রচুর ভিটামিন সি সরবরাহ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমে সহায়ক, যা ভালো ঘুমে পরিণত হয়।

৮. কমলা

কমলা

কমলায় থাকে ভিটামিন সি ও বি৬, যা ট্রিপটোফ্যানকে সেরোটোনিনে এবং পরে মেলাটোনিনে রূপান্তরিত করে। এটি করটিসল হরমোন কমিয়ে শরীরকে শান্ত করে। একটি মাঝারি আকারের কমলা হলো সঠিক পরিমাণ।

ফল খাওয়ার সঠিক সময় ও টিপস

রাতে ফল খাওয়ার সময় একা না খেয়ে প্রোটিন বা ফ্যাটযুক্ত খাবারের সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডায়েটিশিয়ানরা। যেমন: আমন্ড বা দুধের সঙ্গে ফল খেলে রক্তে চিনির মাত্রা স্থিতিশীল থাকে ও ঘুম বাড়ে।

তবে ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে খাওয়ার কাজ শেষ করে নেওয়াই ভালো, যাতে হজমের কোনো সমস্যা না হয়।

Leave a Reply

scroll to top