ঈদুল আজহা মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এবং ইবাদত। এই দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করেন না, তাদের প্রতি আল্লাহর রাসুল (সা.) কঠিন ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন।
ঈদুল আজহার তাৎপর্য এবং রাসুল (সা.)-এর ঈদুল আজহা পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে নিম্নে পাঁচটি হাদিস উল্লেখ করা হলো:
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) যখন হিজরত করে মদিনায় আগমন করেন, তখন মদিনাবাসীদের দুটি উৎসবের দিন ছিল। রাসুল (সা.) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এই দুটি দিন কীসের জন্য পালন করো?” তারা উত্তর দিলেন, “জাহেলিয়াতের যুগে আমরা এই দুই দিনে উৎসব পালন করতাম।” রাসুল (সা.) বললেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দুটি দিনের পরিবর্তে আরও উত্তম দুটি দিন দান করেছেন—ঈদুল আজহা এবং ঈদুল ফিতর।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১১৩৪; সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৫৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২০০৬)
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “আমাকে ঈদুল আজহার দিনে কোরবানি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৬৫৭৫; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৯১৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৪৩৬৫)
হাদিসে বর্ণিত আছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না। কিন্তু ঈদুল আজহার দিন তিনি নামাজের পূর্বে কিছু খেতেন না। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৫৪২)
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যেতেন এবং পায়ে হেঁটেই ফিরতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১২৯৫)
নবীজির ভিন্ন পথে যাতায়াত
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদের দিন এক পথে ঈদগাহে যেতেন এবং ভিন্ন পথে ফিরতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৮৬)
বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের উদ্দেশে খুতবায় বললেন, “এই দিনে আমাদের প্রথম কাজ হলো নামাজ আদায় করা, তারপর কোরবানি করা। যে ব্যক্তি এভাবে করবে, তার কাজ আমাদের সুন্নাহ অনুযায়ী হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবেহ করে, তা কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে না; বরং তা তার পরিবারের জন্য প্রস্তুতকৃত গোশত মাত্র।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৬১; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৯০৭)