দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজন মারা গেছেন, যা চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা ৩৪ জনে উন্নীত করেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী, যা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নির্দেশ করছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন আক্রান্ত ৩৯২ জনের মধ্যে ৩০৬ জনই ঢাকার বাইরের। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে, যার সংখ্যা ১২৬ জন। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে ডেঙ্গু এখন শুধুমাত্র শহরাঞ্চল নয়, বরং সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজনই নারী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। অর্থাৎ, ডেঙ্গুতে নারী ও পুরুষ উভয়ের আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সমান।
এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট হাজার ১৫০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে চার হাজার ৮০৮ জন পুরুষ এবং তিন হাজার ৩৪১ জন নারী। এই পরিসংখ্যান ডেঙ্গুর ব্যাপকতা এবং লিঙ্গভেদে এর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত বছর (২০২৩ সালে) ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই বছর মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,০১,২১৪ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ১,০০,০৪০ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই যেভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহ বিস্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি, জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।





