ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা দিলে ভয়াবহ পরিণতি—পুতিনকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

Trump-putin-zelenskyy-1c9fef0eb7914abfda8ef7e56184e705.jpeg
মো: আল মামুন আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেনে শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে রাশিয়াকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ১৫ আগস্ট আলাস্কায় অনুষ্ঠেয় বৈঠককে সামনে রেখে বুধবার ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি। ট্রাম্প জানান, প্রথম দফার আলোচনা ফলপ্রসূ হলে দ্বিতীয় দফায় ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

রাশিয়ার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও, তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বৈঠক সন্তোষজনক না হলে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন—পুতিন যুদ্ধ বন্ধে অসম্মত হলে রাশিয়া ‘সাজা’ পাবে। তবে সেই শাস্তি নিষেধাজ্ঞা নাকি শুল্ক আকারে হবে, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, আলাস্কার বৈঠকের লক্ষ্য নতুন কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি নয়, বরং ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার পথ তৈরি করা। তিনি জানান, প্রথম দফা বৈঠক সফল হলে দ্বিতীয় দফা দ্রুত আয়োজন করা হবে এবং পুতিন ও জেলেনস্কি চাইলে তিনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন। তবে এ বৈঠকের সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করেননি।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও এর আগের দিন ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে জেলেনস্কির ভার্চুয়াল বৈঠক কিয়েভকে কিছুটা আশ্বাস দিয়েছে, কারণ শঙ্কা ছিল—আলাস্কার বৈঠকে ইউক্রেনের ভূখণ্ড ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব উঠতে পারে। ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, ইউক্রেনের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো চুক্তি হওয়া উচিত নয় বলে জোর দিয়ে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মস্কো জানিয়েছে—পুতিনের অবস্থান ২০২৪ সালের জুনের পর থেকে অপরিবর্তিত। রুশ শর্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনকে চারটি অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, যেগুলো রাশিয়া নিজের অংশ হিসেবে দাবি করে কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই, এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করতে হবে। কিয়েভ এই শর্তকে আত্মসমর্পণের সমতুল্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Leave a Reply

scroll to top