ইশতেহারে এগিয়ে কে: বিএনপি না জামায়াত?

image-264162-1770525065.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক বিশেষ প্রতিবেদন

রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আয়োজিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত নিজেদের পক্ষে টানতে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের জন্য তারা কী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, তার একটি বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেছে দল দুটি।

দুই দলের ইশতেহারেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, বেকারত্ব হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন এবং বৈষম্য দূরীকরণেও গুরুত্ব আরোপ করেছে তারা।

বিএনপির ইশতেহারে মোট ৫১টি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হবে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে ২৬টি অগ্রাধিকারমূলক প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। দলটি ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনী ইশতেহার’ শিরোনামে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, নারীর নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুটি দলই দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের ইশতেহার উপস্থাপন করেছে। বিএনপির ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিপরীতে জামায়াতের ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গ তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, বিষয়বস্তুর দিক থেকে বিএনপির ইশতেহার তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তৃত ও শক্তিশালী।

বিএনপি তাদের ইশতেহারকে পাঁচটি মূল ভাগে বিভক্ত করেছে—রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন এবং ধর্ম-সংস্কৃতি-সমাজ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন। দলটি নয়টি বিশেষ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে মাসিক সহায়তা প্রদান, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু, তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

অন্যদিকে জামায়াত তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো আটটি খাতে ভাগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আত্মনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন। দলটি সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার কথাও বলেছে। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং নারী কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও দুই দলের মধ্যে কিছু মিল দেখা গেছে। বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা নির্ধারণ এবং সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের কথা বলেছে। জামায়াতও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিএনপি শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, ফ্রি ওয়াইফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং মিডডে মিল চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অপরদিকে জামায়াত শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং উচ্চশিক্ষার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মোহনের মতে, দুই দলের ইশতেহারই আশাব্যঞ্জক। তবে তিনি মনে করেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা যতই ভালো হোক, কার্যকর বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত সফলতার মূল চাবিকাঠি হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা কোন দলের পরিকল্পনাকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন এবং নির্বাচনের ফলাফল কোন দলের পক্ষে যায়।

রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আয়োজিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত নিজেদের পক্ষে টানতে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের জন্য তারা কী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, তার একটি বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেছে দল দুটি।

দুই দলের ইশতেহারেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, বেকারত্ব হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন এবং বৈষম্য দূরীকরণেও গুরুত্ব আরোপ করেছে তারা।

বিএনপির ইশতেহারে মোট ৫১টি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হবে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে ২৬টি অগ্রাধিকারমূলক প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। দলটি ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনী ইশতেহার’ শিরোনামে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, নারীর নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুটি দলই দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের ইশতেহার উপস্থাপন করেছে। বিএনপির ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিপরীতে জামায়াতের ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গ তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, বিষয়বস্তুর দিক থেকে বিএনপির ইশতেহার তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তৃত ও শক্তিশালী।

বিএনপি তাদের ইশতেহারকে পাঁচটি মূল ভাগে বিভক্ত করেছে—রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন এবং ধর্ম-সংস্কৃতি-সমাজ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন। দলটি নয়টি বিশেষ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে মাসিক সহায়তা প্রদান, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু, তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

অন্যদিকে জামায়াত তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো আটটি খাতে ভাগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আত্মনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন। দলটি সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার কথাও বলেছে। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং নারী কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও দুই দলের মধ্যে কিছু মিল দেখা গেছে। বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা নির্ধারণ এবং সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের কথা বলেছে। জামায়াতও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিএনপি শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, ফ্রি ওয়াইফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং মিডডে মিল চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অপরদিকে জামায়াত শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং উচ্চশিক্ষার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মোহনের মতে, দুই দলের ইশতেহারই আশাব্যঞ্জক। তবে তিনি মনে করেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা যতই ভালো হোক, কার্যকর বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত সফলতার মূল চাবিকাঠি হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা কোন দলের পরিকল্পনাকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন এবং নির্বাচনের ফলাফল কোন দলের পক্ষে যায়।

Leave a Reply

scroll to top