ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব বাতিল

donald-trump-69994fdbcbdb2.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান বন্ধ করার একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বাতিল হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থিত এই প্রস্তাব পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হতো। তবে ভোটাভুটিতে এটি ২১২–২১৯ ভোটে পরাজিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবটি নাকচ করা হয়। এর ফলে রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই সংঘাতের লক্ষ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খানা। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক অভিযান অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে সরে আসতে হতো।

ভোটটি মূলত দলীয় লাইনে বিভক্ত ছিল। তবে দুইজন রিপাবলিকান সদস্য দলের অবস্থানের বিপক্ষে গিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে চারজন ডেমোক্র্যাট সদস্য এর বিরুদ্ধে ভোট দেন।

এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেন। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

রিপাবলিকান নেতারা মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌ অভিযান শুরু করার ক্ষমতা ট্রাম্পের ছিল। এই অভিযানের জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ইরানে নিহত হয়েছেন ১,২৩১ জন।

প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই মুহূর্তে যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করা খুবই খারাপ ও বিপজ্জনক ধারণা। এটি আমাদের শত্রুদের শক্তিশালী করবে এবং চলমান গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিশনকে দুর্বল করে দেবে।”

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয় কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক আলোচনার পর। এর লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সমাধান করা। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ আইনপ্রণেতাকে আগাম অবহিত করলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ভোট চায়নি।

কেন ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাল—এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যাও বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি ছিল। সেই কারণেই ওয়াশিংটন পদক্ষেপ নেয়।

তবে সংঘাতের নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসন এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, পরিষ্কার লক্ষ্য ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র একটি অবৈধ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, “কেন আমরা আমেরিকান সেনাদের বিপদের মুখে ফেলছি এবং একটি বিদেশি যুদ্ধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছি—এর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। অথচ দেশে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট চলছে।”

অন্যদিকে যেসব রিপাবলিকান এই প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন, তারা বলেন সংবিধান অনুযায়ী সামরিক সংঘাতে জড়ানোর আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

থমাস ম্যাসি বলেন, “১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশনে বলা হয়েছে—তিনটি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধে পাঠাতে পারেন: যুদ্ধ ঘোষণা, নির্দিষ্ট আইনগত অনুমোদন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার কারণে সৃষ্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা। বর্তমানে এই তিনটির কোনোটিই নেই।”

এই আইনটি ১৯৭৩ সালে পাস করা হয়, যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সৈন্য মোতায়েনের কারণে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি কোনো সংঘাত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করতে পারেনি। তবু এই ধরনের প্রস্তাব আইনপ্রণেতাদের বিদেশি সংঘাতে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করার সুযোগ দেয়।

 

Leave a Reply

scroll to top