সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ লুটপাট হয়েছে। “কেউ ফেরেশতা ছিলেন না, সবাই লুটপাট করেছেন। গত ১৭ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে বলেন, যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা বড় বড় কথা বললেও বাস্তবে লুটপাটই করেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দায়িত্বে আসলে এক ইঞ্চি মাটির ওপরও চাঁদাবাজির হাত পড়তে দেওয়া হবে না। “দূর্নীতির সকল রুট বন্ধ করা হবে। কোনো অফিস বা আদালতে ঘুষ নেওয়ার সাহস কেউ পাবে না। আমরা দায়িত্ব পেলে ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে।”
তিনি বলেন, “আমি সিলেটের সন্তান, এখানেই বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি, রাজনীতি করেছি। আমি আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, আপনাদের সন্তান হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আমরা চিংড়ির মতো হাঁটতে চাই না, সিংহের মতো থাবা মেরে সামনে এগোতে চাই।” তিনি বলেন, তারা জামায়াতের বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। আগামী নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়ে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান সিলেটের পানি সংকট, হাওরাঞ্চল, কৃষি ও মৎস্য খাতের অবহেলা নিয়ে বলেন, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে, চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করা হবে। সিলেটের খনিজ সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হবে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, নদী পুনরুদ্ধার ও নদীবান্ধব উন্নয়ন করা হবে।
তিনি সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে বলেন, “কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আসে না। আমরা এটিকে কার্যত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিণত করব।” প্রবাসীদের সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপন ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করা হবে।
নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণেও জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের নদীগুলো মরে গেছে। সিলেটের নদীগুলোও দখল ও দূষণে ভুগছে। আমরা নদীবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদী বাস্তবে পুনরুদ্ধার করব।”
তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যাক কাণ্ডও উল্লেখ করে বলেন, “একদল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। তারা আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। তবে আমি তাদের মাফ করেছি।”
বক্তব্য শেষে তিনি সিলেট জেলার ৬টি ও সুনামগঞ্জ জেলার ৩টি আসনের প্রার্থীকে পরিচয় করান। উপস্থিত জনতা তাদেরকে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়পরায়ণ হিসেবে সমর্থন জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, পরিচালনায় ছিলেন জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন শীর্ষ নেতা।