রাফাহ সীমান্তে নতুন জীবনের আশা দেখছে ফিলিস্তিনিরা

image_263711_1770349373.webp
নিজস্ব প্রতিবেদক আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় চালু হয়েছে। ফলে গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে জীবনের আশা জাগছে। সীমান্তটি চালু হওয়ার পর আরও ২৫ ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরেছেন। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা কয়েকজন রোগীকে গাজা থেকে সীমান্তের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় চালুর পর গাজায় তৃতীয় দল ফিরে এসেছে। ২৫ জনের এই দলটি স্থানীয় সময় ভোর ৩টায় গাজায় প্রবেশ করে। মিসরের এল আরিশ শহর ছাড়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর বাসযোগে তাদের দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ফিরে আসা ফিলিস্তিনিদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিলেন। তারা আল জাজিরাকে জানান, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ, অপমান ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ভয়াবহ চিত্র নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন। ফিরে আসা ফিলিস্তিনি আইশা বালাউই রয়টার্সকে বলেন, “এই অনুভূতিটা আনন্দ আর দুঃখের মাঝামাঝি। পরিবারকে ফিরে পেয়ে আমি খুশি, কিন্তু নিজের দেশের এই ধ্বংস দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি ধ্বংস এতটা ভয়াবহ হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিদেশে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকলেও মানসিক শান্তি পাননি। “আমার জায়গা ওখানে নয়, আমার জায়গা এখানে—গাজায়।”

আল জাজিরা জানিয়েছে, ফেরত আসাদের কয়েক ঘণ্টা পর সাতজন ফিলিস্তিনি রোগী ও তাদের ১৪ স্বজনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্তের দিকে নেওয়া হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম জানান, রোগীদের একটি বাসে করে সীমান্তের মিসরীয় অংশে পাঠানো হয়েছে।

তবে চিকিৎসা স্থানান্তরের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আল জাজিরার আরেক প্রতিবেদক হানি মাহমুদ। তিনি জানান, আংশিকভাবে সীমান্ত চালু হওয়ার পর যতজন রোগী পাঠানোর কথা ছিল, বাস্তবে সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ জন রোগী ও তাদের সঙ্গে দুজন স্বজন পাঠানোর কথা থাকলেও এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৩০ জন রোগী স্থানান্তর করা হয়েছে।

হানি মাহমুদ বলেন, এই গতিতে চললে প্রায় ২০ হাজার গুরুতর অসুস্থ রোগীকে স্থানান্তর করতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। অথচ তাদের অনেকেরই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে ২২টি হাসপাতাল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে এবং অন্তত ১,৭০০ চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।

মিসরের সঙ্গে গাজার একমাত্র প্রবেশ ও বহির্গমন পথ রাফাহ সীমান্ত যুদ্ধের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ ছিল। গত সোমবার এটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি শর্ত। তবে কেবল যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদেরই ফেরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। উভয় দিকের যাত্রীদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, তাদের চোখ ও হাত বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্পূর্ণ শরীর তল্লাশি করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (আইসিএসপিআর) অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল রাফাহ সীমান্তকে মানবিক করিডরের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

এদিকে, দক্ষিণ গাজায় মানুষ ফেরা ও রোগী স্থানান্তরের মধ্যেও পুরো উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিনগুলোর একটিতে আগের দিন ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার খান ইউনিসে হতাহতের পাশাপাশি মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। গাজা সিটির পূর্ব তুফ্ফাহ এলাকায় বিমান হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ভারী কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এলাকাটি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইনের’ কাছাকাছি অবস্থিত।

 

Leave a Reply

scroll to top