লাহোর কালান্দার্স ও মুস্তাফিজ: এক দশকের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

musta-lahore-20260208124708.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক খেলা ডেস্ক

বাংলাদেশের বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহোর কালান্দার্স। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি ক্রিকেটীয় নিয়োগ নয়; বরং এটি প্রায় এক দশক ধরে গড়ে ওঠা বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্কের পুনর্মিলন।

লাহোর কালান্দার্স ও মুস্তাফিজুর রহমানের সম্পর্কের সূচনা পিএসএলের প্রথম ড্রাফট থেকেই। তখন মুস্তাফিজ ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সদ্য আবির্ভূত এক তরুণ বোলার। বাংলাদেশের হয়ে হাতে গোনা কয়েকটি ম্যাচ খেলা হলেও তার প্রতিভা ইতোমধ্যে নজর কাড়তে শুরু করেছিল। সে সময় আইপিএলে অংশ নেওয়ার আগেই লাহোর কালান্দার্স তার সম্ভাবনা উপলব্ধি করে এবং গোল্ড ক্যাটাগরিতে প্রথম পছন্দ হিসেবে তাকে দলে নেয়।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সীমিত থাকা সত্ত্বেও মুস্তাফিজের প্রতি লাহোরের এই আস্থা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রতিভা অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দেওয়ার যে নীতি লাহোর কালান্দার্স অনুসরণ করে, মুস্তাফিজকে দলে নেওয়া ছিল তারই একটি বড় উদাহরণ।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই মৌসুমে মুস্তাফিজ লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলতে পারেননি। প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না পাওয়ায় তার দলে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্ভাবনাময় অংশীদারিত্ব তখন বাস্তবে রূপ নেয়নি। তবুও উভয় পক্ষের মধ্যে আগ্রহ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় ছিল। লাহোর কালান্দার্স মুস্তাফিজের ক্যারিয়ার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে, আর মুস্তাফিজ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

২০১৮ সালে এই সম্পর্ক আবার নতুন করে গড়ে ওঠে। ওই বছর পিএসএলে মুস্তাফিজকে পুনরায় দলে নেয় লাহোর কালান্দার্স। সে মৌসুমে তিনি দলের হয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেন। যদিও দলের সঙ্গে তার সময়কাল ছিল সংক্ষিপ্ত, তবুও এটি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তবে ২০১৮ মৌসুমের পর মুস্তাফিজ আর পিএসএল ড্রাফটে নিজের নাম নিবন্ধন করেননি।

সম্প্রতি এই সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয় চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি। আইপিএলের জন্য নিবন্ধনের পর মুস্তাফিজের ম্যানেজার লাহোর কালান্দার্সের টিম ডিরেক্টর সামিন রানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই যোগাযোগ বহু বছরের পুরোনো সম্পর্ককে আবারও সামনে নিয়ে আসে।

সামিন রানা ইতিবাচক সাড়া দিয়ে মুস্তাফিজের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দীর্ঘদিনের আস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, লাহোর কালান্দার্স সবসময় মুস্তাফিজকে একজন ‘কালান্দার’ হিসেবেই বিবেচনা করেছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবার তাকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নেওয়া হয়েছে।

এই চুক্তিটি এমন সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট কিছুটা হতাশার মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে খেলোয়াড়টির প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেয়—একটি টুর্নামেন্টের ফলাফল কোনো খেলোয়াড়ের সামগ্রিক দক্ষতা বা সম্ভাবনাকে নির্ধারণ করে না।

লাহোর কালান্দার্স ও মুস্তাফিজুর রহমানের এই সম্পর্ক ক্রিকেট বিশ্বে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি উদাহরণ। একজন তরুণ বোলার হিসেবে ড্রাফটে নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে আজ সরাসরি চুক্তিতে দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া—পুরো যাত্রাপথটি একটি বিশ্বাসের গল্প। প্রায় দশ বছর আগে লাহোর কালান্দার্স বাংলাদেশের এক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারের মধ্যে যে আস্থা দেখিয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই বিশ্বাসই আরও দৃঢ় হয়ে নতুন রূপে ফিরে এসেছে।

 

Leave a Reply

scroll to top