আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতোই স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের জন্যও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দেশের স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট, ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (ইওএস)। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত সহায়তা ছাড়া নিরপেক্ষ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইওএস নেতারা দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি তুলে ধরেন। ইওএস জানিয়েছে, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ঢাকা জেলাতেই ১০৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী হলেও প্রচারণা, গুজব ও নানা বিভ্রান্তির কারণে নির্বাচন নিয়ে সংশয় এখনো রয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এবারই প্রথম স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে, কোনো আর্থিক সহায়তা ছাড়াই পর্যবেক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ইওএস অভিযোগ করেছে, সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইওএসের ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের জন্য ন্যূনতম খাবার ও যাতায়াতের ব্যয় বাবদ কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। একাধিকবার আবেদন সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেননি। ইওএস নেতারা বলেন, কমিশনের কাছে অর্ধদিবস মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও তাদের দাবি শোনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি, স্মারকলিপি গ্রহণও করা হয়নি।
পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র বিতরণেও সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত বদলানোয় স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা এখনও সমস্যার মুখোমুখি। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন কিছু সহযোগিতা করছে।
সংগঠনটি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা-খাওয়ার ব্যয় এবং দায়িত্ব কমিশনের হাতে থাকা বিষয়টি নজরদারি করা প্রয়োজন। তারা দেশের ৩০০ আসনে পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজনেরও কম পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তবু ইওএস অঙ্গীকারবদ্ধ একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে।
সংবাদ সম্মেলনে ইওএসের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহসভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।