নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় পিরোজপুরের নেছারাবাদে একটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগে ও সেটিকে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে ভেঙে ফেলার পূর্বেই সেতুটি সম্পূর্ণ ধ্বসে পড়েছে উপজেলার পূর্ব জলাবাড়ি ইউনিয়নের ভাদুরা খালের উপর নির্মানাধীন পাঁচ কোটি টাকার সেতু।
কর্তৃপক্ষ সেতুটিকে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে উপর থেকে কিছু অংশ ভেঙে ফেললে বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সেতুটি সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ে।
নেছারাবাদ উপজেলাধীন পূর্ব জলাবাড়ি খৃষ্টান পাড়া হতে মাদ্রা বাজার সড়কের ওপর একটি প্যাকেজে ২২ ও ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুইটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর মেসার্স ইফতি ইটিসিএলকে কার্যাদেশ দেয় পিরোজপুর এলজিইডি। যার চূক্তি মূল্য ছিল ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ব্রিজ দুইটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মিরাজুল ইসলাম নিজে কাজ না করে একজন সাব কন্ট্রাক্টরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন। তবে কাজের নিম্নমান এবং সিডিউল মেনে না করার কারনে স্থানীয়রা কাজে বাধা দেন। পরবর্তীতে আরেক সাব কন্ট্রাক্টর গত বছরের শেষ দিকে গার্ডার ছাড়াই সেতুটির ছাদ ঢালাই দেয়। তবে এর কিছুদিন পরে ঢালাই দেওয়া অংশে ত্রুটি দেখা দেয়। তখন স্থানীয়দের আপত্তির মুখেএলজিইডি তদন্ত করে সেতুটির ঢালাই দেওয়া অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী গত সোমবার সেতুটির ত্রুটিপূর্ণ অংশটির অপসারণ শুরু করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেতু
নির্মাণে অকল্পনীয় দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা,আশিকুল মন্ডল জানান,ব্রিজটির কাজ শুরুর প্রথম দিকেই নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে শুরু করে যার কারনে আমরা বাধা প্রদান করি।অন্য এক এলাকার বাসিন্দা ওমর হোসেন জানান, আমাদের জলাবাড়ি সেতু নির্মাণের ধীর গতি থাকার আমাদের ছেলে মেয়ে দের স্কুল মাদ্রাসায় যেতে অনেক কষ্ট হয়।
এ বিষয় উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রায়সুল ইসলাম জানান, কাজ নিয়ম অনুযায়ী না করার কারণে পুরো স্লাব (ছাদ) ভেঙ্গে নতুনভাবে নির্মাণ কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মূল ঠিকাদারকে পাওয়া না যাওয়ায় কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য যে, পিরোজপুর এলজিইডি থেকে কাজ না করেই কয়েক হাজার কোটি আত্মসাৎ করে মিরাজুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আত্মগোপনে রয়েছে মিরাজুল।