ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ঘিরে একটা কাল্পনিক রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের আশা পূরণ হবে তো? বাংলাদেশ পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারবে তো? এমন বেশ কয়েকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে।
তবে শেষমেশ ৫০ ওভারও ব্যাট হাতে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়নি বাংলাদেশ। ৫০ ওভারের আগেই সবাই যেনো ম্যাচ নিয়ে হাফিয়ে গেছে। অলআউট হলো ২ বল বাকি থাকতেই। অলআউট হওয়ার আগে দল তুলেছে ২০৭ রান।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি মিরাজ বলেছিলেন, ‘আমাদের ৫০ ওভার খেলতে হবে, শেষ তিনটি ম্যাচ আমরা তা করতে পারিনি।’
আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম ওয়ানডেতে মনে হয়েছে, জয় পরাজয় একপাশে থাক, আপাতত দলের চাওয়া যেন কোনোরকমে ৫০ ওভার ব্যাট করা যায়। নাহয় ৩০তম ওভারে এসেও ১০০ না ছোঁয়া, ৬ উইকেট হাতে রেখেও ৪০ ওভার শেষে ১৪০ রানের কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর সুযোগ আছে কী?
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দলের ওপেনিং ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে একটিও ফিফটির দেখা পায়নি বাংলাদেশ। সে কারণে ইনিংসের গোড়াপত্তনে আজ আনা হয় সৌম্য সরকারকে, বাদ পড়েন তানজিদ তামিম। তবে তাতে কোনো ফলাফল আসেনি আজও পরিণতিটা হলো অন্য দিনের মতোই বাজে।
ফর্মে থাকা সাইফ হাসান ফিরলেন প্রথমে, এরপর সৌম্যও যখন বিদায় নিচ্ছেন, দলের রান তখন দুই অঙ্কেও পৌঁছায়নি।
দলের মন্থর ব্যাটিংয়ের শুরু এরপর থেকে। নাজমুল হোসেন শান্ত তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়া শুরু করলেন, ১২০ বলে দুজন ৭১ রান যোগ করলেন তৃতীয় উইকেটে। তবে তাতে একটা কীর্তি অবশ্য গড়া হয়ে যায়, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো তৃতীয় উইকেট থেকে আসে অন্তত ৫০ রান।
শান্ত ৫০ ছুঁইছুঁই স্ট্রাইক রেটে ৩২ রান করেন। ওপাশে তাওহীদ হৃদয় ফিফটি করেছেন, ৯১ বলে ৫১ করে বিদায় নিয়েছেন। অভিষিক্ত মাহিদুল অঙ্কনও ছিলেন ভীষণ মন্থর। ৭৬ বলে করেছেন ৪৬ রান।
উদ্দেশ্য একটাই, যেন উইকেট না চলে যায়, ইনিংস যেন ধসে না পড়ে। মিরাজের ইনিংসটা ছিল ২৭ বলে ১৭ রানের। যার সম্মিলিত যোগফল ৪০ ওভারে ১৪০ রান। তখন মনে হচ্ছিল ৫০ ওভারে বুঝি ২০০ ও হবে না!
শেষমেশ তা পেরিয়েছে মূলত লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটে চড়ে। রিশাদ হোসেন ২৬ রানের ইনিংস খেলেন ২০০ স্ট্রাইক রেটে। একটা ছক্কাসহ তানভীর ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৯ রানে।
নুরুল হাসান সোহানও ১০ খেয়ে করেছেন ৯ রান। যার ফলে শেষ ৯.৪ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৬৭ রান। তবে তার খেসারতটাও দিতে হয়েছে ৬ উইকেট খুইয়ে।
উইকেট ধরে রাখতে গেলে রান আসছে না, রান তুলতে গেলে হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ছে ইনিংস। বিষয়টা যেন আজ আরেকবার জানান দিল, ওয়ানডের ব্যাটিংটাই ভুলে গেছে বাংলাদেশ।