ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসা কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৈঠকে নির্বাচন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যেত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে অন্তর্ভুক্তির মতো মানসিকতা নেই।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, কাউকে জোর করে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিচার চলছে এবং দলটির প্রধান নেত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। তার অভিযোগ, বিদেশে অবস্থান করে তিনি সরকার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখা যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, সরকার যে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার আগ্রহ বা মানসিকতা দেখা যায়নি। বরং তারা অতীতের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারী ভোটারদের ভয়ের কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা সামগ্রিক অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে হিজাব বা বোরকা পরিহিত নারীরা হয়রানির শিকার হতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার এসব নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সচেতন থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।