বাংলাদেশের সড়কগুলোতে যাত্রী ধরার নেশায় বাসচালকদের বেপরোয়া গতি ও বিপজ্জনক ড্রাইভিং এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর’ (France 24) এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।
ফ্রান্স টুয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অনেক বাসচালক রাস্তায় স্রেফ যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে উচ্চগতিতে গাড়ি চালান। গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে চালকরা নিয়মিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, জিগজ্যাগ ড্রাইভিং (এঁকেবেঁকে চালানো) এবং এমনকি ফুটপাথ বা রাস্তার পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো কাণ্ড ঘটাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে কেন চালকরা এতোটা বেপরোয়া। দেখা গেছে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পরিবহন মাধ্যম হওয়ায় বাস কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা রয়েছে। দ্রুততম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রী টানতে চায় তারা, যা মূলত চালকদের আইন ভাঙতে এবং ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত করে।
আরেকটি অদ্ভুত ও বিপজ্জনক তথ্য উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের হাজার হাজার ভিডিও এখন ‘ভাইরাল’ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো স্রেফ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর জানান, অনেক যাত্রী চালকদের আরও দ্রুত চালানোর জন্য উৎসাহ দেন যাতে তাদের যাত্রা ‘রোমাঞ্চকর’ হয়। রোমাঞ্চের এই নেশা যে কত বড় ট্র্যাজেডি ডেকে আনছে, তা অনেকেই ভুলে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক পুরোনো ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় চলায় সামান্য ত্রুটিতেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ১২ শতাংশই বাসের কারণে ঘটে থাকে। ফরাসি গণমাধ্যমটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি এই নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতা এবং যাত্রী ধরার মানসিকতা পরিবর্তন না হয়, তবে বাংলাদেশের সড়কগুলোতে লাশের মিছিল থামানো কঠিন হবে।
তথ্যসূত্র: ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর ও আমার দেশ অনলাইন।





