ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই ইরানে আগাম বিমান হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটনের জড়িয়ে পড়া নিয়ে নতুন ব্যাখ্যায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে হামলা চালাতে বদ্ধপরিকর ছিল ইসরায়েল। সে ক্ষেত্রে তেহরান পাল্টা জবাব দিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাহিনীও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতো। এ সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আগাম পদক্ষেপ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের শীর্ষ সদস্যদের ব্রিফ করে প্রশাসন। ওই ব্রিফিংয়ে রুবিও ছাড়াও সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফ অব স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল কেইন উপস্থিত ছিলেন। রুবিওর ব্যাখ্যায় আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্যাপিটাল হিলে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, “এটা স্পষ্ট ছিল যে, ইরান যদি কারও দ্বারা হামলার শিকার হতো—সেটা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা অন্য যে কেউ হোক—তাহলে তারা জবাব দিত। আর সেই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও আসত।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জানতাম ইসরায়েল পদক্ষেপ নেবে। এর ফলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা শুরু হতো। আগাম ব্যবস্থা না নিলে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত।”
সোমবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়া থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, “ইরানের হাতে যেন পারমাণবিক অস্ত্র না যায়—এ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থামবেন না।”
উল্লেখ্য, প্রশাসনের ভেতরে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।