উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার ঘিরে বিতর্ক: চাঁদ না দেখেই কি রমজান ঘোষণা?

ramadan-moon-20260216194829.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ ঘণ্টা ডেস্ক

সৌদি আরব–এর সরকারি হিজরি বর্ষপঞ্জি উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র রমজানের প্রথম দিন নির্ধারিত হয়েছে। তবে প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর একাধিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি ঘিরে আবারও আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে অভিযোগ রয়েছে, চাঁদ দেখা যাক বা না যাক—সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই তাদের ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী রমজান ও ঈদের তারিখ ঘোষণা করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই গত বছরের এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখার তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মুসলমানরা চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করেন, যেখানে ১২ মাসের প্রতিটি মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। রমজান শুরু ও শেষ হওয়ার বিষয়টি ঐতিহ্যগতভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের কিছু দেশ নিজস্বভাবে চাঁদ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, আবার কিছু দেশ সৌদির ঘোষণার ওপর নির্ভর করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের মুসল্লিদের একটি অংশ সৌদির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে থাকে, যদিও অনেক আলেম এ বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন।

২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দেয়। ওই সময় কুয়েত–এর খ্যাতিমান জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন দাবি করেছিলেন, আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা সম্ভব নয় এবং কেউ চাঁদ দেখলে তার প্রমাণ হিসেবে ছবি প্রকাশের আহ্বান জানান। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এরপরও ঈদের ঘোষণা দেয়। পরে সৌদি জ্যোতির্বিদ মুলহাম আল-হিন্দি একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা অস্পষ্ট চাঁদের ছবি প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালেও ঈদুল আজহার চাঁদ দেখা নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক দেখা যায়। সে সময়ও অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী দাবি করেন, বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী চাঁদ দেখা সম্ভব ছিল না।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি–এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ বলেন, বহু ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা না থাকলেও সৌদি চাঁদ দেখার দাবি করে থাকে এবং সেটি প্রায়ই উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

তিনি আরও জানান, সৌদিই একমাত্র দেশ নয় যারা গণনাভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে এবং তারা এ বিষয়ে স্বচ্ছ অবস্থান বজায় রাখে।

 

Leave a Reply

scroll to top