সিলেটে সাদাপাথর লুট:

লুট হওয়া সাদা পাথর মাটি-বালি দিয়ে আড়াল করেছে ব্যবসায়ীরা

IMG_20250814_210135.jpg
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটের বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান চলছে। এর মধ্যেই ক্র্যাশার মিল মালিকরা লুটকৃত পাথরের উপর বালু ও মাটি ঢেলে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল লালবাগ, সালুটিকর এবং কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে। অভিযানের পর এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে; অধিকাংশ ক্র্যাশার মিল বন্ধ, মালিক ও শ্রমিকরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ভোলাগঞ্জের একাধিক মিলে দেখা গেছে—সামনে আমদানি করা পাথর রাখা হলেও পেছনে থাকা লুটপাটের পাথর বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কোথাও আবার দ্রুত ভেঙে ফেলা হচ্ছে সেসব পাথর। ধোপাগুল শহীদ মিনার এলাকা ও লালবাগের মিলগুলোতেও একই চিত্র। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “সরকারি দলের চোখ ফাঁকি দিতে মালিকরা পাথরের উপর বালু বা মাটি প্রলেপ দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও মাটি-বালু মিশিয়ে পাথরকে পুরনো বা কালচে দেখানোর চেষ্টা চলছে।”

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ বলেন, “অভিযান চলছে। বালু-মাটি দিয়ে পাথর লুকানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি বিভিন্ন বাড়িতে লুকানো পাথরও উদ্ধার করা হবে।” কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার জানান, “লুকানো পাথরও অভিযানে উদ্ধার হবে।”

গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাদাপাথর এলাকায় শুরু হয় লাগামহীন লুটপাট। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ধলাই নদের উৎসমুখে জমে থাকা বিপুল পাথর দিনে-দুপুরে নৌকা করে সরিয়ে নেওয়া হয়, এমনকি নদীতীর খুঁড়ে বালুও উত্তোলন করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সাত দিনের মধ্যে লুট হওয়া সব পাথর উদ্ধার করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেয়। রিটটি করেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে সরওয়ার আহাদ, শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

Leave a Reply

scroll to top