যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার খুবই সীমিত ও অপ্রতুল পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২৪ সালের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে বেআইনি বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন, বেআইনি গ্রেপ্তার-আটকসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যের চলমান জাতিগত সংঘাতের কথা। খ্রিস্টান কুকি ও হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে। সংঘাতে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ স্টান গান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। কিছু এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি প্যানেলও কাজ করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও বিঘ্নিত হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমকি, অযৌক্তিক গ্রেপ্তার ও সেন্সরশিপের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া শিশুদের মাওবাদী গোষ্ঠীতে জোরপূর্বক নিয়োগ, জোরপূর্বক গর্ভপাত ও বন্ধ্যাকরণের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মির, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এবং মাওবাদী সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডও মানবাধিকার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মিরে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য ও ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।





