শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য সরকার জনগণের সঙ্গে ‘মিথ্যাচার’ করছে: রুমিন ফারহানা ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগে আবারও বন্ধ হরমুজ প্রণালী একটি সমাধি ঘিরে অসংখ্য বিশ্বাসের গল্প সু চির সাজা কমালেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং হরমুজ প্রণালি সচল করতে প্যারিসে বিশ্ব সম্মেলন: ম্যাক্রোঁ-স্টারমারের বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হজযাত্রীদের পদচারণায় মুখর আশকোনা হজক্যাম্প: রাতে উড়ছে প্রথম ফ্লাইট সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র নিম্নমানের কিটে ভুল রিপোর্ট, বাড়ছে হেপাটাইটিস-এইচআইভি ছড়ানোর শঙ্কা

দেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে অপেক্ষায় আছে চীন : ফখরুল

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫

বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে চীন সরকার এবং নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী— এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, চীন এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং একটি প্রতিনিধিত্বশীল ও জনগণের সমর্থনে গঠিত সরকারকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে বেইজিং শহরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সান ওয়েইডং-এর সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। চীন সফরে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি নিজেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, চীন যে বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের গুরুত্ব দিচ্ছে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষি, শিল্প, তৈরি পোশাক, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ খাতে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বাণিজ্য বৈষম্য দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক। বিএনপি সবসময়ই চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতী। বেইজিংয়ের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু শিখতে চায় এবং পারস্পরিক সম্মান ও সমঝোতার ভিত্তিতে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে চায়।

বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়, তারা বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখতে চায়। একইসঙ্গে তারা এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। চীন এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

প্রসঙ্গত, চলমান অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিএনপি এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অধিকতর সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। গত বছরের বিতর্কিত নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এবার চীন সফরকেও বিএনপি আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমর্থন জোগাড়ের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।

বিএনপি নেতাদের মতে, বর্তমান সরকারের নির্বাচন প্রশ্নে বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বার্তা চীনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ চীন দীর্ঘদিন ধরে সব সরকারের সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে এলেও, বর্তমানে তারা একটি গ্রহণযোগ্য সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে বলছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ‘নির্বাচনকেন্দ্রিক পুনর্মূল্যায়ন’-এর প্রবণতা আরও জোরালো হতে পারে।

চীনের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংযোগ তৈরি হয়, যা ২০১১ সালের পর থেকে আরও জোরদার হয়। বিএনপির নেতারা বলছেন, তারা বহুমাত্রিক বৈদেশিক নীতিতে বিশ্বাসী এবং ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চায়।

চীন সফরকালে বিএনপি প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরাও বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাংক ও কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা গেছে। সফরের দ্বিতীয় পর্বে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে দেশে ফিরে বিএনপি মহাসচিব আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন বলেও জানা গেছে।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD