শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য একটি সমাধি ঘিরে অসংখ্য বিশ্বাসের গল্প সু চির সাজা কমালেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং হরমুজ প্রণালি সচল করতে প্যারিসে বিশ্ব সম্মেলন: ম্যাক্রোঁ-স্টারমারের বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হজযাত্রীদের পদচারণায় মুখর আশকোনা হজক্যাম্প: রাতে উড়ছে প্রথম ফ্লাইট সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র নিম্নমানের কিটে ভুল রিপোর্ট, বাড়ছে হেপাটাইটিস-এইচআইভি ছড়ানোর শঙ্কা দেশের তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেটে কী বেশি খোঁজে? চীন সফরে বিএনপির প্রতিনিধিদল, বিমানবন্দরে বিদায়ী সংবর্ধনা

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াতে শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন জরুরি

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫

শ্রমিকদের জীবনমান আগের অবস্থায় রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি।

বৃহস্পতিবার (১ মে) মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক গভীর বক্তব্যে ড. ইউনূস এ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় মে দিবস-২০২৫ পালন করছে—এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং আনন্দের বিষয়। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগ আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”

শ্রমিক ও মালিক কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “শ্রমিক ও মালিক কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়—তারা পরস্পরের পরিপূরক। একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সম্মানবোধ থেকে যদি যৌথ উদ্যোগ গড়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, সামাজিকভাবেও একটি আত্মনির্ভর জাতিতে পরিণত হতে পারবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, এই বছরের মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো এদেশ নতুন করে’—এই স্লোগান শুধু প্রতীকী নয়, এটি একটি বাস্তব দর্শনের প্রতিফলন, যা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ড. ইউনূস বলেন, “যৌথ প্রচেষ্টা ছাড়া দেশের কোনো খাতই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য লাভ করতে পারে না। শ্রমিকের ঘামে যেমন শিল্পের চাকা ঘোরে, তেমনি মালিকের দূরদর্শিতা ও বিনিয়োগের সাহসে সেই চাকা সচল থাকে।”

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, “নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা কেবল শ্রমিকের অধিকার নয়, বরং শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশের পূর্বশর্ত। একটি কর্মবান্ধব, নিরাপদ ও উদার কর্মপরিবেশ কর্মী উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, উদ্ভাবনী শক্তিকে ত্বরান্বিত করে এবং প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখে।”

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় সরকারের অগ্রাধিকার

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, “শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। প্রতিটি শ্রমিক যেন দুর্ঘটনামুক্ত, সুরক্ষিত পরিবেশে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা নিয়মনীতি সংস্কার করছি। উন্নয়ন প্রকল্প ও শিল্প কারখানাগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক মানদণ্ড জোরদার করা হচ্ছে।”

বক্তব্যে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা একটি বৈষম্যহীন, ন্যায্য ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা অনেকটাই এগিয়ে এসেছি। তবে সামনের পথ আরও দীর্ঘ, যেখানে শ্রমিক-মালিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচারই হবে চালিকাশক্তি।”

ড. ইউনূস দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, “পোশাক শিল্প, কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাত—সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকের ঘাম ও নিষ্ঠা বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার ভিত্তি। এদেরকে বাদ দিয়ে বা অবহেলা করে আমরা কোনোভাবেই এগোতে পারি না।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে পোশাক খাতে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি গর্বিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু এই খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এটিই আমাদের অর্থনীতির টেকসই ভিত্তি নিশ্চিত করবে।”

ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে বলেন, “শ্রমিক শুধু একজন চাকরিজীবী নয়, তিনি এই দেশের নির্মাতা। তাদেরকে সম্মান জানানো মানে জাতিকে সম্মান জানানো। আমাদের উচিত হবে কর্মক্ষেত্রে এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে শ্রমিক-মালিক উভয়েই নিজেদের অংশীদার হিসেবে ভাবেন এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করেন।”

তিনি জাতির প্রতিটি স্তরের মানুষকে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের একে অপরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগোতে হবে। শ্রমিক-মালিক ঐক্য যদি দৃঢ় হয়, তাহলে কোনো চ্যালেঞ্জই আমাদের থামিয়ে রাখতে পারবে না।”

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD