আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

New-Project-3-2.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জোরপূর্বক আটক করার ঘটনার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে কেবল তার নিজস্ব নৈতিকতা দিয়ে। আন্তর্জাতিক আইন মানা বা না মানার বিষয়টি তার সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না।”

এর আগে গত শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। অভিযানের একপর্যায়ে মার্কিন সেনারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেয়। সমালোচকদের মতে, এ পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে কোনো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ।

হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ কাজে লাগাবে। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করবে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার নীতিনির্ধারণে প্রভাব খাটাবে বলেও জানানো হয়। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন নির্দেশনা অমান্য করলে দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার বাইরে কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন তিনি। এর আগে জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশও দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মার্গারেট স্যাটারথওয়েট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে বিশ্ব আবারও ‘সাম্রাজ্যবাদের যুগে’ ফিরে যেতে পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো আগ্রাসী পথে হাঁটতে উৎসাহিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এমএ

Leave a Reply

scroll to top