ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে অন্যের জামিননামা ব্যবহার করে পালিয়েছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি হয় শনিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ডেপুটি জেলারসহ মোট আটজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— সর্বপ্রধান কারারক্ষী শাহাদাত হোসেন, ডেপুটি জেলার মো. আজহারুল ইসলাম, কারারক্ষী মোরশেদ আলম, মো. হানিফ মিয়া, মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, মোহাম্মদ আবু খায়ের, রবিউল আলম ও শাহাব উদ্দিন।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, নবীনগর থানায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দিদার হোসেন নামের এক আসামির জামিননামা ব্যবহার করে আখাউড়া থানার একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।
হৃদয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মুজিবুর মিয়ার ছেলে। তিনি ২০১৮ সালে আখাউড়া থানার একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওবায়াদুর রহমান বলেন, “দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার সুযোগে একজনের জামিননামা দেখিয়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি পালিয়ে গেছেন। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভির সহায়তাও নেওয়া সম্ভব হয়নি। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার জানান, ঘটনার তদন্তে কারা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কারা উপমহাপরিদর্শক ছগির মিয়াকে। অন্য দুই সদস্য হলেন চাঁদপুরের জেলার ও ফেনীর জেল সুপার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “পলাতক আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”





