বিসিবি নির্বাচন: ক্রিকেট নাকি ক্ষমতার লড়াই!

BCB-Election.png
মো: আল মামুন খেলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয়তা। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নির্ধারিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বোর্ড কক্ষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত চলছে নানা সমীকরণ।

সরকার সমর্থিত বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিএনপি সমর্থিত সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের লড়াই এবার সামনে এনেছে এক অঘোষিত রাজনৈতিক যুদ্ধ। বিএনপি ঘনিষ্ঠ ক্লাবগুলোর শক্ত প্যানেলে ভর করে মাঠে নামছেন তামিম, অন্যদিকে প্রশাসনিক সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বুলবুল।

পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাসও। গত এক দশকে নাজমুল হাসান পাপন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ সমর্থনে। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন—ক্লাব বনাম প্রশাসনের লড়াইয়ে ফলাফলের অনিশ্চয়তা অনেক বেশি।

বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ২৫টি আসনের মধ্যে ১২টি ক্লাব, ১০টি বিভাগ ও জেলা, ২টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত এবং ১টি অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি। এখানেই নির্ধারিত হবে সভাপতির ভাগ্য।

এদিকে বুলবুল অভিযোগ করেছেন, তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য হুমকি দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে গানম্যানও চেয়েছেন তিনি। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তামিম ইকবাল দাবি করেছেন, অভিযোগের প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোও আলোচনায় এসেছে। ফারুক আহমেদের সঙ্গে তার বৈঠক এবং ক্রীড়া সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বুলবুলের উপস্থিতি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকের মনে।

সব মিলিয়ে এবারের বিসিবি নির্বাচন শুধু ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নয়, রাজনীতির শক্তি-সমীকরণেরও প্রতিফলন ঘটাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে মাঠের বাইরের এই লড়াই হয়ে উঠছে ক্রিকেটের চেয়ে বেশি ক্ষমতার লড়াই।

Leave a Reply

scroll to top