অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ফের মুখের স্কিন ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার করালেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, নাকের ক্যান্সার আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।
২০০৬ সালে প্রথমবার স্কিন ক্যান্সারের উপসর্গ ধরা পড়ে ক্লার্কের মুখে। এরপর একাধিকবার চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে। সর্বশেষ সার্জারির পর ক্লার্ক লিখেছেন— “ত্বকের ক্যান্সার এখন অস্ট্রেলিয়ায় ভয়ংকর বাস্তবতা। প্রতিরোধই শ্রেষ্ঠ উপায়। নিয়মিত চেকআপ আর প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণই আমাকে বাঁচিয়েছে। তাই সবাইকে বলব— নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করুন।”
এর আগে ২০১৯ সালে কপাল থেকে ক্যান্সার অপসারণ করেছিলেন তিনি। তখন তরুণদের উদ্দেশে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকদের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা ট্যানিং বেডে থাকার কারণে ত্বককোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে, যা স্কিন ক্যান্সারের কারণ। সময়মতো ধরা গেলে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, তবে দেরি হলে ঝুঁকি মারাত্মক হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় এই সমস্যা সবচেয়ে প্রকট। বিষুবরেখার কাছাকাছি অবস্থান আর ফর্সা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত রাষ্ট্র। পরিসংখ্যান বলছে, ৭০ বছরের আগেই প্রতি তিনজন অস্ট্রেলীয়র মধ্যে দু’জনের শরীরে কোনো না কোনোভাবে এই ক্যান্সার ধরা পড়ে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রচুর সময় সূর্যের নিচে কাটিয়েছেন মাইকেল ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন ১১৫ টেস্ট, ২৪৫ ওয়ানডে ও ৩৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪৭ টেস্টে এবং ২০১৩-১৪ সালের অ্যাশেজে দলকে ৫-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার রান ১৭ হাজারের বেশি, টেস্টে সেঞ্চুরি ২৮টি।
২০১০ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্যান্সার কাউন্সিলের দূত হিসেবে কাজ করছেন ক্লার্ক। এর কিছু আগে অজি কিংবদন্তি ইয়ান চ্যাপেলও নিজের স্কিন ক্যান্সারের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।





