দীপু মনি থেকে শামা ওবায়েদ: কূটনীতিতে পিছিয়ে নেই নারীরা

1772937246-e00a7f73443c4bf18fe63ad2eca7154b.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশার মতো কূটনীতিতেও নারীরা এখন সমানতালে এগিয়ে চলেছেন। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের নারী কূটনীতিকরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সম্প্রতি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শামা ওবায়েদকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারের কূটনীতির মতো জটিল একটি খাতের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে দেশে ও বিদেশে ৮০ জনেরও বেশি নারী কূটনীতিক দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আটজন নারী রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধান দায়িত্ব পালন করছেন। তারা বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাবাব ফাতিমা। লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম। কানাডায় রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান, মিশরে সামিনা নাজ, গ্রিসে নাহিদা রহমান সুমনা, মরক্কোয় সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, ভুটানে মালেকা পারভীন এবং ব্রুনাই দারুস সালামে নওরিন আহসান মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেহেলি সাবরীন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বলেন,
“আমার কাছে প্রতিদিনই নারী দিবস। কর্মক্ষেত্রে আমি নিজেকে নারী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে দেখি।”

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশে দুজন নারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রী হন ডা. দীপু মনি। আর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শামা ওবায়েদকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

নারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন,
“অনেক সময় নারীদের তাদের পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়। নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ প্রমাণ করতে বেশি কাজ করতে হয়। তবে পথ কঠিন হলেও হাল না ছেড়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত ছিলেন মাহমুদা হক চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ভুটানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে বাংলাদেশের প্রথম নারী কূটনীতিক ছিলেন নাসিম ফেরদৌস। তিনি ১৯৭৭ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। পরবর্তীতে মিশর, সাইপ্রাস, পাপুয়া নিউ গিনি ও পূর্ব তিমুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে নাসিম ফেরদৌস বলেন,
“এখন নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। কিন্তু তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। অনেক পুরুষ কর্মকর্তা মনে করতেন, একজন নারী ফরেন সার্ভিসে টিকতে পারবেন না।”

তিনি আরও বলেন,
“ফরেন সার্ভিসে নারীদের জন্য চাকরি এখন খুব কঠিনও নয়, আবার খুব সহজও নয়। কিছু পরিবর্তন এসেছে, গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে। তবে এখনও অনেক ক্ষেত্রে নারীদের পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।”

নারী কূটনীতিকদের মধ্যে প্রথম সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইসমত জাহান। প্রথম নারী হিসেবে এনডিসি কোর্স সম্পন্ন করেন মাজেদা রফিকুন্নেছা। আর নারী কূটনীতিকদের মধ্যে প্রথম কনসাল জেনারেল ছিলেন শাহনাজ গাজী।

 

Leave a Reply

scroll to top