মোটরসাইকেল যোগে রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিলে পৌঁছাতে সময় লাগার কথা মাত্র পাঁচ মিনিট। কিন্তু এখন সময় লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি। এটা তো গেল মোটরবাইকে চলাচলের সময়, কিন্তু যারা লোকাল বাসের যাত্রী তাদের এই দূরত্বে ঠিক কতো সময় লাগবে তার ধারণা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, সড়কে যানজট ঠিক কী পরিমাণ তার ওপর নির্ভর করবে বাসের যাত্রীরা সমান দূরত্বে পৌঁছাতে কতো সময় লাগবে। ১৮ মার্চ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ (ভাটারা) দুই ঘণ্টা হাতে নিয়ে মতিঝিল অফিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন বিকেলে চারটায়। তার টার্গেট ছিল অফিসে ইফতার করার, সন্ধ্যা ৬টার পর ইফতারের সময় কিন্তু তিনি ইফতারের আগে অফিসে পৌঁছাতে পারেননি। এটা রাজধানীর নিত্যদিনের চিত্র। বাসা থেকে অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়েও সঠিক সময় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না নগরবাসী।
সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ এবং ভুক্তভোগীরা মনে করেন দু’টি নতুন কারণ যুক্ত হয়েছে যানজট বৃদ্ধির পেছনে। একটি হচ্ছে বেটারি চালিত অটোরিকশা এবং মোটারচালিক রিকশা আগে প্রধান প্রধান সড়কে চলতে পারতো না, কিন্তু এখন ফ্লাইওভারেও ওঠে যাচ্ছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাহন। এদের প্রতি করারও কেউ নেই। আর দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, প্রতিনিয়তই রাজধানীর জনসংখ্যা বাড়ছে, পরিবহন বাড়ছে, সেক্ষেত্রে সড়ক না বেড়ে উল্টো কমছে। প্রতিনিয়তই সড়ক দখল করে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। তারা সড়ক দখল করে নানা ব্যবসা চালু করেছে। দলীয় সরকার থাকাকালে সড়ক থেকে অবৈধ হকার বা দখলদারদের উচ্ছেদ করার নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। দলীয় আশ্রয় এবং প্রশ্রয়ে এসব দখলদাররা অনঢ় অবস্থানে থাকত, ফলে উদ্যোগ নিলেও তাদের সরানো তে না। কিন্তু এখন তো আর দলীয় সরকার নেই, স্থানীয় কোনো নেতা তাদের সেল্টার দিচ্ছেন এমনটা বলারও সুযোগ কম, তাহলে এখন এই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে বাধা কোথায়?
ঢাকার যানজট নিরসনে একটি কার্যকম পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সেটি হচ্ছে, দাপ্তরিক কাজ বি-কেন্দ্রীকরণ- যেমন দরুণ: স্কুল-কলেজ এবং মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকরা বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শিক্ষা অফিস রয়েছে। কিন্তু ঢাকার কেন্দ্রীয় দপ্তর কাজগুলো এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যাতে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ঢাকা অফিসে আসতে বাধ্য হন। অথচ দাপ্তরিক কাজগুলো (চিঠি চালাচালি, মোবাইল ফোন বা মেইল বার্তায়) ঢাকা না এসেও করা যায়। একান্তই দপ্তরে আসতে হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিস আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যায়, কিন্তু সেটি না করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের রাজধানীতে আসতে বাধ্য করা হয়। উদ্দেশ্য অবৈধভাবে অর্থউপার্জন ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিদিন এমন বাধ্য হয়ে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ঢাকায় আসেন। যদি প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ঢাকা আসতে বাধ্য না হন তাহলে অন্তত কয়েক হাজার মানুষের চাপ কমবে ঢাকার ওপর থেকে। এভাবে সরকারি সব দপ্তরই চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা দপ্তরের মাধ্যমে কর্মসম্পাদন করতে পারে। তাহলে অতিরিক্ত মানুষের চাপ কমবে, কমবে যানজটও।