জাতীয় সংসদ ও রাজনীতির মাঠে নারীশূন্যতা: কী ভাবছেন নেত্রীরা?

b893af5db3029068926969b26134f715-69cd49f2d1f4a.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রায় চার দশক বাংলাদেশের রাজনীতির শীর্ষে ছিলেন নারী নেতৃত্ব। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা-কে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার ও প্রধান বিরোধী দল—উভয় ক্ষেত্রেই নেতৃত্বে এসেছে পুরুষরা। এতে জাতীয় সংসদ ও রাজনীতির মাঠে দৃশ্যমান নারী নেতৃত্বের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

একসময় সংসদে শক্ত অবস্থান ছিল রওশন এরশাদ, শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী ও মতিয়া চৌধুরী-এর মতো নেত্রীদের। বর্তমানে তাদের অনুপস্থিতি সংসদে নারীদের কণ্ঠকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের আনুপাতিক হারে মনোনয়ন দেয়নি। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশই পরিবারতান্ত্রিক পরিচয়ের মাধ্যমে রাজনীতিতে এসেছেন। ফলে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

লাকী আক্তার মনে করেন, নারী নেতৃত্বের ঘাটতির পেছনে রয়েছে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, নারী বিদ্বেষ, নিরাপত্তাহীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে নারীর সীমিত উপস্থিতি। তার মতে, এসব কারণে নারীরা জনপরিসরে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

বর্তমান সংসদে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন পুরুষরা। নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম ছিল এবং বিজয়ী নারী নেত্রীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য নয়। বিএনপি থেকে অল্পসংখ্যক নারী প্রার্থী নির্বাচিত হলেও অন্যান্য বড় দলগুলোর পক্ষ থেকে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল আরও সীমিত।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত রুমিন ফারহানা পূর্বে সংসদে সরব ভূমিকা রাখলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার প্রভাব তুলনামূলক কম বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের বড় একটি অংশ উঠে এসেছে রাজপথ ও ছাত্র রাজনীতি থেকে। অতীতে সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন, তারানা হালিমসহ অনেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে এসেছেন।

বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা অনেকটাই দুর্বল। নতুন প্রজন্মের নারী নেত্রীরা রাজপথে সক্রিয় হলেও এখনো জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেননি।

মনিরা শারমিন মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাব ও সাইবার বুলিংয়ের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় নারী নেতৃত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে মারদিয়া মমতাজ বলেন, নারীদের নিজেদের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে এবং দলগুলোকে নারীবান্ধব নীতিতে অটল থাকতে হবে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহাম্মেদ বলেন, নারীদের আরও বেশি সুযোগ ও মনোনয়ন দিলে সংসদে তাদের কার্যকর উপস্থিতি বাড়বে।

রাজনীতির মাঠে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে দলীয় নীতিতে পরিবর্তন, তৃণমূলে বিনিয়োগ এবং সামাজিক বাধা দূর করা জরুরি। তা না হলে জাতীয় নেতৃত্বে নারীশূন্যতা আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে।

 

Leave a Reply

scroll to top