ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাত যেন বিশৃঙ্খলার দিকে না যায়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন, বিপণনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা একটি বৃহত্তর সংস্কার কার্যক্রমের প্রথম ধাপ। এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত সংস্থা বা কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে তেল খাতে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
মার্কো রুবিও বলেন, সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে। তখন মার্কিন ও অন্যান্য পশ্চিমা কোম্পানিকে ন্যায্য শর্তে ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা থেকে সাগরপথে তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে এবং সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হবে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) অনুযায়ী, দেশটির তেলক্ষেত্রে অন্তত ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
তবে বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় দশমিক ৮ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারী ও ঘন প্রকৃতির হওয়ায় উত্তোলন ও পরিশোধনে উন্নত প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। এই তেল থেকে উচ্চমানের ডিজেল, অ্যাসফল্টসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব।
এদিকে গত ৩ ডিসেম্বর রাজধানী কারাকাসে ‘অপারেশন অ্যাবসলুট ডিজলভ’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স। অভিযানের সময় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন। এসব অভিযোগের বিচার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।





