ট্রাম্পের ইরানে হামলা ছিল ‘লোকদেখানো’ শোম্যানশিপ : খামেনি

New-Project-2-2.jpg
২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানে চালানো সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন। খামেনি বলেন, এই হামলা ছিল লোকদেখানো—একটি নিছক ‘শোম্যানশিপ’এর পেছনে সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশল ছিল।”

তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করেও যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত সুবিধা আদায় করতে পারেনি। বরং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানোর পূর্ণ সক্ষমতা দেখিয়েছে।”

খামেনি তার ভাষণে ইসরায়েলকেও কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরানি বাহিনী ইসরায়েলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ভেদ করে শহুরে এবং সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। এই সংঘাত ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কৌশলগত আধিপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।” বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-ইরান সাম্প্রতিক সংঘর্ষটি মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি মোড় ঘোরানো অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়ে খামেনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জন্য আগ্রাসনকারীদের অনেক বড় মূল্য দিতে হবে। আমরা শুধু আত্মরক্ষায় নয়, প্রয়োজনে আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা আঘাত করতে দ্বিধা করব না।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্ররা বারবার ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক কর্মসূচির অজুহাত দেখিয়ে ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের আসল লক্ষ্য হলো ইরানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।”

উল্লেখ্য, ১৩ জুন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই আয়াতুল্লাহ খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি তেহরান ছেড়ে একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছিলেন। অবশেষে ২৪ জুন মধ্যরাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দিন পর আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই ভাষণ দেন।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক এই সংঘাত শুরু হয় ১৩ জুন, যখন ইসরায়েল অভিযোগ তোলে যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এরপর তেহরানে ও অন্যান্য শহরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে। পরবর্তীতে ২২ জুন মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামক অভিযানে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর ঠিক একদিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা ইরান মেনে নেয়।

Leave a Reply

scroll to top