সিন্ডিকেট ভাঙতে: ঈদের পরপরই অ্যাকশন খাদ্য বিভাগে

বি.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য অধিদপ্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি গুদাম ব্যবস্থাপনা, ধান-চাল সংগ্রহ, সরঞ্জাম ক্রয় ও কর্মকর্তাদের বদলিতে অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন সরকারের আমলে এ চিত্রের বড় পরিবর্তন হয়নি। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি কঠোর হতে যাচ্ছে।

সরকারি উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পরপরই খাদ্য বিভাগে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছেছে। খাদ্য বিভাগের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আলোচনা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুসারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেনসহ কয়েকজন অনুপস্থিত থাকছেন। গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আসে। ফলে খাদ্যমন্ত্রীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর নির্দেশে খাদ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

অনিয়মের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক খাদ্য অধিদপ্তরে এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) গুদামগুলোকে কেন্দ্র করে একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব পদে দায়িত্ব পেলে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে। অভিযোগ রয়েছে, বদলির জন্য ১০-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে এ ধরনের বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ বেশি।

খুলনা বিভাগে মামুনুর রশিদ ও তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। তাদের বিরুদ্ধে গুদাম ব্যবস্থাপনা, ধান-চাল সংগ্রহ, সরঞ্জাম ক্রয় ও বদলিতে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অফিসে যথাসময়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঈদের পর শুদ্ধি অভিযানের প্রস্তুতি ঈদের পর অভিযানে তদন্তের আওতায় আসতে পারে— গুদাম ব্যবস্থাপনা, ধান-চাল সংগ্রহ, বস্তা-সরঞ্জাম ক্রয়, বদলি-পদায়ন, পরিবহন ব্যয় ও ঠিকাদারি কার্যক্রম।

সম্প্রতি খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “খাদ্য বিভাগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এখানে কোনো দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। আমরা পুরোপুরি ‘হার্ড লাইনে’ যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান চালালে স্থায়ী পরিবর্তন আসবে না। জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখে, তাহলে খাদ্য খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

Leave a Reply

scroll to top