আমাদের বার্তা স্পষ্ট : খামেনি

New-Project-82-1.jpg
২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

কাতারের রাজধানী দোহার উপকণ্ঠে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে ইরানের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওই ঘাঁটিতে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে দোহার বেশ কিছু অংশ কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসবিবিসি অ্যারাবিক, যা ইসরায়েলি এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে খবর নিশ্চিত করে।

এই হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক কঠোর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা কারো ওপর আগে হামলা চালাইনি। কিন্তু কেউ আমাদের ওপর আগ্রাসন চালালে, আমরা তা কখনোই মেনে নেব না—কোনো পরিস্থিতিতেই না।”
তিনি আরও বলেন, “ইরানি জাতির যুক্তি খুবই স্পষ্ট—আমরা কারো আগ্রাসনের কাছে মাথানত করব না। আমরা প্রতিরোধ করব, সম্মানের সঙ্গে বাঁচব।”

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়—এটি ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানকেও ইঙ্গিত করছে। দেশটি এখন আর প্রতিক্রিয়াহীন থাকবে না, বরং আগ্রাসনের জবাবে সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

ঘটনার পর কাতার তার আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং মার্কিন দূতাবাস দোহায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়। হামলার আগেই আল উদেইদ ঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলার হুমকি পাওয়া গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন এক পশ্চিমা কূটনীতিক।

হামলার ঘটনায় সৌদি আরব, বাহরাইন, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন ও ফিলিস্তিন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব এবং আকাশসীমা লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে একে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলেও অভিহিত করেছে। কাতার নিজেও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এটিকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত কূটনৈতিকভাবে এই উত্তেজনা প্রশমিত করা না যায়, তাহলে এটি বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং যুদ্ধ এড়াতে বিশ্ব নেতাদের পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Reply

scroll to top