ইরানে চলমান সংঘাত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে দেশটির সরকার পরিবর্তনের দাবিতে সক্রিয় হয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ীরা। সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নোবেল বিজয়ী এই গ্রুপ ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার অবসান এবং গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ইরানি মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি দীর্ঘদিন ধরে নারীদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। তিনি বর্তমানে ইভিন কারাগার–এ বন্দি, যেখানে তিনি ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ এবং মানবাধিকার আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে ৩১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নার্গিস কারাবন্দি অবস্থাতেও কারাগারে নারীদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের তথ্য সামনে এনেছেন এবং মৃত্যুদণ্ড বাতিলের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি–র সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থা ডিফেন্ডারস অব হিউম্যান রাইটস সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবেও কাজ করছেন।
শিরিন এবাদি ইরানের প্রথম নারী বিচারকদের একজন এবং ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল জিতেছিলেন। তিনি নারীর অধিকার, শিশু অধিকার এবং মানবাধিকার সংরক্ষার জন্য দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছেন। ইসলামী বিশ্বের প্রথম নারী শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই আইনজীবী ইরানের সরকার ব্যবস্থার সংস্কার ও ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের পক্ষে সক্রিয়। তিনি কারাবন্দি নার্গিসকে সমর্থন দিয়ে চলেছেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করছেন।
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ইরানের বর্তমান সরকারকে স্বৈরশাসক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি জনগণ একটি ‘ব্রেকিং পয়েন্টে’ পৌঁছেছে এবং বিশ্ব নেতাদেরকে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তার মতে, স্বৈরশাসকরা একে অপরকে সাহায্য করে, প্রযুক্তি ও সম্পদ বিনিময় করে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে একে অপরকে সমর্থন দেয়, যা সাধারণ জনগণের গণতান্ত্রিক দাবিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
১১৩ জন নোবেল বিজয়ী গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছেন। তারা ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড, মৃত্যুদণ্ড বৃদ্ধি এবং ‘মর্মান্তিক’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার দাবি করছেন, একনায়ক বা ধর্মীয় শাসন প্রত্যাখ্যান করছেন এবং দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাক্ষরকারীরা জাতিসংঘ মহাসচিব এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেতাদের সমর্থন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এতে স্বাক্ষর করেছেন যেমন হোসে রামোস-হোর্তা, লেক ওয়ালেসা, এবং ড্যারন আসেমোগলু।
নোবেল বিজয়ীদের এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ইরানের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে বিশ্ব নজর আকর্ষণ করছে এবং সেদেশে সরকারের পরিবর্তনের সম্ভাব্য চাপ বাড়াচ্ছে।





