বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে এবং তারা এ ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানায়। তবে জাতীয় ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি ভিন্ন চিত্রও তুলে ধরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা তাদের শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনেক ভোট যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। তার দাবি, ৫৩টি আসনে বিএনপি কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসন বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এ পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আইনের আওতায় থেকে বৈধ সব পন্থায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়; বরং যেসব আসনে প্রশ্ন উঠেছে সেখানে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্বশীল উদ্যোগ। গণতন্ত্রের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট গণনায় অনিয়ম বা বিলম্বের অভিযোগ উঠলে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পুনর্গণনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও দ্রুততার ওপর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটে সংস্কারের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন এসেছে। এতে পরিবর্তনের জন্য একটি স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নতুন সরকারকে সেই ম্যান্ডেট সম্মান করে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহিংসতা বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকারকে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনা করতে হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জাতির উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ গড়ে তুলতে হবে।





