ইসরায়েলি হামলায় গাজায় একদিনেই নিহত ৮১, অধিকাংশই নারী ও শিশু

gaza.jpg
মো: আল মামুন আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলায় একদিনে আরও অন্তত ৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার (৭ জুলাই) দিনভর চালানো এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছেন।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার শেখ রাদওয়ান ও আল-নাসর এলাকায় দুটি বাড়িতে বোমা বর্ষণ করে, যেখানে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলায় অন্তত ২৫ জন প্রাণ হারান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন ঘুমন্ত শিশু ও নারী। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে আছেন।

ত্রাণকেন্দ্র ও শরণার্থী শিবিরেও হামলা
ওয়াদি গাজার দক্ষিণে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে গোলাবর্ষণে ৪ জন নিহত হন, আহত হন আরও ২৫ জন।মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আল-সাফতাওয়ি এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ড্রোন হামলায় মারা যান তিন ভাই। শেখ রাদওয়ানে এক আশ্রয়কেন্দ্রের তাঁবুতে ড্রোন হামলায় নিহত হন আরও তিনজন। শাতি শরণার্থী শিবিরের একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া মানুষের ওপর বিমান হামলায় প্রাণ হারান ৭ জন, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

আল-মাওয়াসিতে দুটি ত্রাণশিবিরে বিমান হামলায় নিহত হন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে একটি গর্ভবতী নারীও ছিলেন। আল-আলবানী মসজিদের কাছে ড্রোন হামলায় ৩ জন শিশুসহ চারজন নিহত হন। নুসেইরাতে একটি পরিবারের ৮ জন সদস্য এক হামলায় প্রাণ হারান। একই এলাকায় অন্য এক হামলায় মারা যান আরও তিনজন। আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনেক মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় এসেছে এবং আহতদের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য।

মানবিক সংকট ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
ইসরায়েলের অবরোধে গাজার মানুষ যখন খাদ্য ও পানির জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই এসব হামলা চালানো হয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদন জানায়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও চলছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ)।

Leave a Reply

scroll to top