ইসরায়েল সংঘাতে ইরান ‘বিজয়’ অর্জন করেছে: খামেনি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর তৃতীয়বারের মতো বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আঘাতে ইসরায়েলের সব দাবি ও অহংকার প্রায় চূর্ণ- বিচূর্ণ হয়ে গেছে। ভ্রান্ত ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য আমি জনগণকে অভিনন্দন জানাই।’ আজ বৃহস্পতিবার ( ২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তান তিনি এ কথা বলেন।

এদিন খামেনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামেও তাঁর অ্যাকাউন্টে ফারসি ভাষায় আরেকটি বার্তা পোস্ট করেছেন। সেই বার্তায় তিনি লিখেন, ‘তৃতীয় বারের মতো অভিনন্দন, ইরানি জাতির ঐক্যের জন্য অভিনন্দন।’ খামেনি আরও লিখেন, ‘প্রায় ৯ কোটি মানুষের একটি জাতি সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল। ইরানি জাতি তার স্বতন্ত্র চরিত্র প্রদর্শন করেছে এবং দেখিয়েছে যে, প্রয়োজনে এই জাতির পক্ষ থেকে একটিই কণ্ঠস্বর শোনা যাবে।’

এর আগে, গতকাল বুধবার (২৫ জুন) নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে ন্যাটো সম্মেলনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে।’ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের আছে কিনা এমন প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ইরান মাত্রই একটি যুদ্ধে ছিল এবং তারা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘এখন থেকে চীন চাইলে ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে পারে। দেশটির (ইরানের) আবার ঠিক হওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন।’

ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা করবে কিনা- সাংবাদিকের এই প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই। আমি মনে করি না তারা আবার কখনও এটি (পামাণবিক কর্মসূচি) করবে। যদি তারা (ইরান) ফের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করে তাহলে আবারও দেশটিতে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র।’ ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবে। তারা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা পরমাণু বোমা পাবে না। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না।’

ইরানের তিন পরমাণুকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের করা হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় পরমাণু বোমা হামলার সঙ্গে তুলনা করেন ট্রাম। তিনি বলেন, সেই হামলার ফলে যুদ্ধ থেমেছিল। আমি হিরোশিমা-নাগাসাকির উদাহরণ দিতে চাই না। তবে ঘটনা একই। এর মাধ্যমেই যুদ্ধ থেমেছিল।’

সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, হামলার পর ইরান ঘটনাস্থলে গেছে। তারা বলেছে, স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমরা কী করেছি সেটা দেখার পরই তারা স্থির হয়েছে। আমরা এটা না করলে তারা প্রচুর অস্ত্র তৈরি চালিয়ে যেত। তারা থামতো না। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর যে অবস্থা হয়েছে, তাতে সেগুলোতে পুনরায় কাজ শুরু করা কঠিন। আমি আশা করবো ইরান ভবিষ্যতে পরমাণু কর্মসূচি চালু করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকবে।

Leave a Reply

scroll to top