রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে রোববার (২৯ জুন) দুপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে তাদের সহপাঠী আরশাদ হোসেনের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিচার না পাওয়া এবং দায়ী ব্যক্তির জামিনে মুক্তি।
দুপুর ১২টা থেকে ধানমন্ডির কনকর্ড টাওয়ারের সামনে শিক্ষার্থীরা প্রথমে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন শুরু করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে এসে অবস্থান নেন। এরপর মিছিলটি কাঁটাবন ও নীলক্ষেত মোড় ঘুরে পুনরায় সায়েন্সল্যাবে ফিরে অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীদের অবস্থানে সায়েন্সল্যাব মোড়ের একপাশে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ওই এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থী আরশাদ হোসেন গত ২৩ মে রাতে তার বন্ধুদের সঙ্গে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তার সঙ্গে একটি ট্রাকের চালকের বাকবিতণ্ডা হয় বলে জানা গেছে। পরদিন ভোরে আরশাদ যখন মোটরসাইকেল চালিয়ে বাংলামোটর এলাকায় পৌঁছান, তখন একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
পরে ঘটনার তদন্তে অভিযুক্ত ট্রাকচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ, কিন্তু তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ ঘটনায় আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড। আমাদের বন্ধুকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ অপরাধী জামিনে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে—এটা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না।”
তাদের দাবি, দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, সহপাঠীর মৃত্যু ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সায়েন্সল্যাব এলাকায় পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প রুট ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়। তবে আন্দোলনকারীরা বলেন, “বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। কেউ আমাদের ভয় দেখিয়ে থামাতে পারবে না।”
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তারা নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো সহপাঠীকে এভাবে হারাতে না হয়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে যান চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়।





