বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) হঠাৎ করেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিনে চার পরিচালকের পদত্যাগে বোর্ডে যেন পদত্যাগের ‘মিছিল’ শুরু হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রায় ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন বোর্ড সভার দিনই শুরু হয় এই নাটকীয়তা। সভা চলাকালীন প্রথমে পদত্যাগ করেন ফাইয়াজুর রহমান। পরে সভা শেষে দায়িত্ব ছাড়েন শানিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরী। মধ্যরাতে পদত্যাগের তালিকায় যোগ দেন মঞ্জুর আলম।
পদত্যাগী চার পরিচালকই বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ফাইয়াজুর রহমান ছিলেন ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও সিসিডিএমের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। শানিয়ান তানিম ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির, মেহরাব আলম চৌধুরী সিকিউরিটি কমিটির এবং মঞ্জুর আলম মেডিকেল বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এ নিয়ে সাতজন পরিচালক সরে দাঁড়ালেন। এর আগে ২৪ জানুয়ারি গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইশতিয়াক সাদেক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ২৩ মার্চ মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ হারানোর পর পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ান আমজাদ হোসেন। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত পরিচালক ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিকও পদত্যাগ করেন।
গত অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান বোর্ড দায়িত্ব নেয়। তবে শুরু থেকেই ওই নির্বাচন নিয়ে সরকারি হস্তক্ষেপ, অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি), যার প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটাঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ টিকবে কি না।
তবে বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু মনে করেন, পদত্যাগে বোর্ডের কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছি। ভবিষ্যতে যা-ই হোক, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই।”
অন্যদিকে পরিচালক রুবাবা দৌলা বলেন, “আমরা দীর্ঘ সময় ধরে বোর্ড মিটিং করেছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছি। কী হবে, তা সময়ই বলবে।”





