বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি ছিল যেন একটি অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। ক্রিকেট পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশ হোঁচট খেল এমন এক দলের বিপক্ষে, যাদের এখনও পূর্ণাঙ্গ টেস্ট মর্যাদা নেই। ২০২৫ সালের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বাংলাদেশ যে শুধু একটি সিরিজ হারিয়েছে তা নয়—এই হার দেশের ক্রিকেট কাঠামো, প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্বের ওপর এক নির্মম প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পারভেজ হোসেন ইমন-এর সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ ২৭ রানে জয়লাভ করে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আমিরাত ২০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শেষ দুই ওভারে ২৯ রান তুলে নাটকীয়ভাবে জয় পায়, যা সিরিজে সমতা আনে। তৃতীয় ও নির্ধারক ম্যাচে, বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ব্যর্থ হয় এবং আমিরাত ৭ উইকেটে সহজ জয় নিশ্চিত করে, যা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়।
সিরিজের শেষ ম্যাচটা বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরে গিয়েছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। সবমিলিয়ে সহযোগী দেশের বিপক্ষে এটি ১১তম হার। অফিসিয়াল ম্যাচের হিসেবে ১০ম ম্যাচে। সিরিজ বিবেচনায় ৩য় সিরিজ হার। সবশেষ এক বছরের মধ্যে দুবার আইসিসির সহযোগী দেশের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।
কাকতালীয়ভাবে এর আগে ২০২৪ সালে ২১ মে তারিখেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে এসেও ২১ মে তারিখেই আরব আমিরাতের কাছে হারতে হলো সিরিজ। আর সেটাই টাইগার ক্রিকেটে লজ্জাজন দুই বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষস্তরে বা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা ৯ দেশের মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে সহযোগী সদস্যদের কাছে ১০ টি-টোয়েন্টি হেরেছে বাংলাদেশ। ৫ হারের রেকর্ডও অবশ্য অন্য কোনো দেশের নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ টি-টোয়েন্টি হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
লজ্জার কেবল এখানেই শেষ নয়। জিম্বাবুয়ে ব্যতীত একমাত্র টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে সহযোগী দেশের কাছে একাধিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা দেশগুলোর কথা বিবেচনা করলে অবশ্য টাইগাররাই সহযোগী দেশগুলোর কাছে হারের একমাত্র শিকার।