রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার

New-Project-2025-03-29T194405.134.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যার ফলে মার্চ মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া তথ্যনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দেশের মোট রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভের পরিমাণ ২০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার।
তবে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে রয়েছে, যা তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত।

এর আগে গত ৯ মার্চ আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমলেও চলতি রমজান মাসে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির কারণে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে ডলার বিক্রি সীমিত করা হয়েছে এবং নতুন উৎস থেকে ডলার সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয়, আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। গ্রস রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

মার্চের ৯ তারিখ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল বাবত ১৭৫ কোটি ডলার পরিশোধ করায় গ্রস রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ বিলিয়নের নিচে এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২০ বিলিয়নের থেকেও কমে যায়।

আকুর বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ এর মান অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ হয়েছিল ১৯ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা এ কয়দিনে আবার ২০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠে এসেছে।

এর আগে মার্চে প্রথম ২৬ দিনে দেশে এসেছে ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স; যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ।

বিশ্ববাজারে ডলার সংকট এবং আমদানি ব্যয়ের চাপের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকে স্বস্তি দিয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়নের ডলারের নিচে নামে। সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়ানো হয়। আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে। আবার বিভিন্ন সোর্স থেকে ডলার যোগানের চেষ্টা করছে। তবে আগের দায় পরিশোধ করতে গিয়ে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে কাছে ওঠানামা করছে।

Leave a Reply

scroll to top