রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘অলংকার নিকেতন’ জুয়েলার্সের মালিক এম এ হান্নান আজাদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বর্ণালংকারসহ ৩৭ লাখ টাকার মালপত্র লুটের অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। প্রায় ২০-২৫ জনের একটি ডাকাত দল র্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট ও ছাত্র পরিচয়ে অভিযানের কথা বলে ওই বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
ডাকাত দলের অধিকাংশের গায়ে ছিল র্যাব লেখা কটি। প্রায় ২০ মিনিট ধরে লুটপাট চালিয়ে তারা প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ও প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় ধরা পরে চারজন।
পুলিশ বলছে, ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
তৌহিদুল ইসলাম লিমন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অলংকার নিকেতন জুয়েলার্সের মালিক আমার মামা এম এ হান্নান আজাদ। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আমি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। ধানমন্ডির ৮ নম্বর রোডের ছয়তলা বাড়িটিতে ২৬ মার্চ ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনটি মাইক্রোবাস এবং একটি প্রাইভেটকারযোগে ডাকাতরা দলবদ্ধভাবে বাসার সামনে আসে। তারা এসে সিকিউরিটি গার্ডদের বলে, আমরা র্যাবের লোক, আমাদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে, এই বাড়িতে অভিযান চালানো হবে, তাড়াতাড়ি গেট খোলেন। এ সময় ডাকাতদের কয়েকজনের গায়ে র্যাবের কটি পরা ছিল।’
ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- মো. ইব্রাহিম (৩২), আব্দুল্লাহ, ম্যাজিস্ট্রেট ও র্যাবের ডিআইজি পরিচয় দেওয়া জুসান আমিম, জুসানের কথিত বড় ভাই সফিকুল, জুসানের সহযোগী বাবু, ওমায়েদ, গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া আতিক ও আহসান। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি, তারাও পলাতক।
পুলিশ জানায়, ডাকাতদলের ১০ জনের পরনে ছিল র্যাবের পোশাক। এরপর বাসাটিতে ডাকাতি শুরু হয়।
পরিস্থিতি টের পেয়ে বাসার মালিক তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ডাকাতদলের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় জুয়েলার্সের মালিক এম এ হান্নান আজাদ ধানমণ্ডি মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার চারজনসহ পলাতকদের আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এরই মধ্যে পলাতক কয়েকজন ডাকাতকে শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, ডাকাতদল বাসা থেকে দেড় লাখ টাকা এবং মালিকের স্ত্রীর ব্যবহৃত কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
ভবনটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় একটি অফিস ছিল, সেখান থেকে ২০-২৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ডাকাতদলে অন্তত ২৫ জন ছিল।