রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে, যার প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। তীব্র গরমে বাইরে চলাচল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজেও বাড়ছে অস্বস্তি। এ অবস্থায় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই সুস্থ থাকতে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা ও সচেতনতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে হিটস্ট্রোক হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানির কারণও হতে পারে।
হিটস্ট্রোক কী?
হিটস্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা, যখন শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যায় এবং শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এতে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
শিশু ও বয়স্করা, বাইরে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া, ঘাম কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, দ্রুত হৃদস্পন্দন।
তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন
বেশি পানি পান করুন: তৃষ্ণা লাগার আগেই নিয়মিত পানি পান করুন। প্রয়োজনে ওআরএস বা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি পান করতে পারেন। রোদ এড়িয়ে চলুন: দুপুর ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। হালকা পোশাক পরুন: সুতির ও হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন: বাইরে বের হলে মাথা ঢেকে রাখুন। ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিন: দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে মাঝেমধ্যে ছায়া বা ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নিন। ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দিন।
হিটস্ট্রোক হলে করণীয়
আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যান, কাপড় ঢিলা করে দিন. শরীরে ঠান্ডা পানি দিন বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছুন, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
সবশেষে বলা যায়, হিটস্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য—যদি আগে থেকেই সতর্ক থাকা যায়। গরমে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সচেতন থাকুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।





