বছর ঘুরে আবারও এসেছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাস এলেই দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আবহ। রমজান মাসজুড়ে চলে নানা আয়োজন, তার ব্যতিক্রম নয় দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও। রমজানের আগমনে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিরাজ করছে ধর্মীয় আবহ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ১৭ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন প্রকাশ্যে ইফতার মাহফিল আয়োজন করতে পারেনি। তবে ৫ জানুয়ারি সরকারের পরিবর্তনের পর এবার প্রথমবারের মতো স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছে।
গত বছর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) স্বৈরাচারী প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ইফতার আয়োজন নিষিদ্ধ করেছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদে জাবির শিক্ষার্থীরাও একত্রিত হয়ে গণ-ইফতার করেছিল, যদিও তখন নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ছাত্রলীগের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা সাহসী অবস্থান নিয়েছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এবার কোনো প্রকার বাধাবিঘ্ন ছাড়াই রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো নির্বিঘ্নে এই আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছে।
পবিত্র রমজানের আমেজ ছড়িয়ে দিতে জাবি শাখা ছাত্রদলও ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে। তারা পর্যায়ক্রমে ক্যাম্পাসের প্রতিটি হলে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ইফতার ও দোয়া মাহফিল’ শিরোনামে গণ-ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট হল সংখ্যা ২১টি, এর মধ্যে ছেলেদের ১১টি ও মেয়েদের ১০টি। ইতোমধ্যে ছেলেদের ১১টি হলে পৃথকভাবে ও মেয়েদের ১০টি হলে সম্মিলিতভাবে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন করেছে জাবি শাখা ছাত্রদল।
অন্যদিকে, গত ১৬ মার্চ (রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ইফতার মাহফিল ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাবি শাখার নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গণ-ইফতার কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ। উক্ত আয়োজনে গণ-ইফতারের পাশাপাশি হামদ-নাত, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
গণ-ইফতার আয়োজন বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, “পতিত স্বৈরাচার আমলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পবিত্র রমজান মাসে মিলেমিশে আনন্দঘন পরিবেশে ইফতারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এখন সিনিয়র-জুনিয়র একসঙ্গে বসে ইফতার করতে পারছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। জাবি ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়ে ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, “ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রকল্যাণমূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণ-ইফতার ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেছে। শিবির শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে ইনশাআল্লাহ।”
বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন, “এই ধরনের কার্যক্রম ছাত্রসমাজের মধ্যে সহমর্মিতা ও একতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।”