রোহিঙ্গাদের বাইরে রাখলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে

f4411d71c3c421029bccede5a97b58cd-69b6c152c7bf0.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পের বাইরে রাখার কাঠামোগত নীতি সুপ্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে। সীমাবদ্ধ চলাচল ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা তাদের মধ্যে মানসিক সংকট সৃষ্টি করে।

রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘দুর্বলতা থেকে স্থিতিস্থাপকতা: নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জীবিকার ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের (এসপিএফ) পিস বিল্ডিং প্রোগ্রামের সহযোগিতায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ওয়াইপিএসএ) এ আয়োজন করে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন গবেষণাটি উপস্থাপন করেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মানবিক সংস্থাগুলো কিছু জীবিকা নির্বাহের উদ্যোগ চালু করলেও সেগুলোর পরিধি ও স্থায়িত্ব সীমিত। এতে ক্যাম্পবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এছাড়া জিসিইআরএফের নির্বাহী পরিচালক ড. খালিদ কোসের, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি টমোহাইডে ইচিগুচি উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান রেজা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন।

গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে—

অর্থবহ জীবিকা সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, যুব সম্পৃক্ততা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের মাধ্যমে কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলা। বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো। ক্ষা সম্প্রসারণ ও যুব নেতৃত্বের উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের হতাশা ও স্থবিরতা রোধ। মানসিক ট্রমা মোকাবিলায় সম্প্রদায়ভিত্তিক মনোসামাজিক সহায়তা ও সামাজিক বন্ধন মেরামত। ক্যাম্প প্রশাসন ও সুরক্ষা প্রোটোকল শক্তিশালী করে দুর্বল গোষ্ঠী রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা তৈরি।

সামগ্রিকভাবে, মনোসামাজিক সহায়তার সঙ্গে কাঠামোগত সংস্কার একীভূত করে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির জটিলতা মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

scroll to top