রাজধানীসহ সারাদেশের বিপণিবিতানগুলোতে ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। অনেক পোশাকের দোকানে ক্রেতার ভিড়ে তিল ধারণেরও জায়গা নেই। তবে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর বড় মসজিদ সংলগ্ন শাড়ি পল্লি মার্কেটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আদি বেনারসি পল্লি হিসেবে পরিচিত এ মার্কেটে বিক্রি তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গত শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে মার্কেটটি ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও দু-একজন ক্রেতা পণ্য দেখছেন, দরদামও করছেন, তবে বিক্রি আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।
বড় মসজিদ সংলগ্ন সড়কের দুই পাশে প্রায় এক যুগ আগে গড়ে ওঠা এ মার্কেটে অন্তত একশ দোকান রয়েছে। এখানে মিরপুরের বেনারসি শাড়ি, লেহেঙ্গা, ভারতীয় কাতান, পার্টি শাড়ি, শিফন-জর্জেট শাড়ি ও এমব্রয়ডারি শাড়ি খুচরা ও পাইকারি বিক্রি হয়।
হোমা বেনারসি কুঠির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, এখানে কারচুপি, স্টোন ও সুতার কাজের শাড়ির চাহিদা বেশি। তারা মূলত ফেব্রিক্স এনে তাতে বিভিন্ন ডিজাইন বসিয়ে কাজ করেন। এসব শাড়ি এখান থেকে বড় বড় শোরুমেও সরবরাহ করা হয়। কাজের ধরন অনুযায়ী লেহেঙ্গা ও শাড়ির পাইকারি দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তবে তার আক্ষেপ, দেশীয় পণ্য হওয়ায় অনেক সময় এসব শাড়ির কদর কম থাকে। তিনি বলেন, “মানুষ ভারতীয় বা পাকিস্তানি বললেই কিনে নেয়। অথচ আমাদের শাড়ির মান কোনো অংশে খারাপ নয়। অনেক সময় একই ধরনের শাড়ি এখানে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভারতীয় বলে একই ধরনের শাড়ি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।”
আয়েশা শাড়িঘরের বিক্রেতা আরমান আলী বলেন, “এখানে পাইকারি ও খুচরা দুইভাবেই বিক্রি হয়। তবে এবার বেচাকেনা কিছুটা কম। ঈদের আগে বাজার ভালো হবে বলে আশা করছি।”
মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানেই ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাকের আধিক্য রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, অনেক সময় ভারত থেকে কাপড় এনে এখানে কারচুপি, পুতি বা স্টোন বসিয়ে নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা হয়।
কারখানা মালিক ইমাম হাসান বলেন, একসময় মিরপুর এলাকায় প্রচুর তাঁতি ও তাঁত শ্রমিক কাজ করতেন। এখন তাঁত পণ্যের কদর কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ অন্য কাজ করছেন।
তিনি বলেন, কাঁচামালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে রেশমের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১১ হাজার টাকা। সেটি পাকাতে আরও ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ শুল্ক সুবিধায় অনেকেই বিদেশ থেকে কম দামে রেশম আনতে পারছেন।
হস্তশিল্প কারচুপি ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মিঠু বলেন, বিদেশি পণ্যের কারণে দেশীয় কারিগরদের কাজের চাপ কিছুটা কমেছে। এ খাতে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাই দেশীয় শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি নীতি সহায়তা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, পোশাকের মান ও ডিজাইনের ওপরই মূলত তাদের পছন্দ নির্ভর করে। ক্রেতা বাতেন হক বলেন, এখানে অনেক পোশাক অন্যান্য শোরুমের তুলনায় অনেক কম দামে পাওয়া যায়।
গৃহিণী সারা হোসেন বলেন, দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি পাকিস্তানি থ্রিপিসও জনপ্রিয়। কারণ অনেক সময় সেগুলো বেশি আকর্ষণীয় ডিজাইনের হয়।
ক্রেতা শারমিনের মতে, ভালো কাপড় ও ডিজাইন থাকলে ক্রেতারা বেশি দাম দিয়েও পোশাক কিনতে আগ্রহী হন।





