ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের শর্তে শিথিলতার আভাস?

a188bc7272fd059aa6f87d72ffccbe70-69d274a6d1371.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নতুন এক ‘সমঝোতার’ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি ও ওয়ার্ক ভিসায় আসা অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাস (আইএলআর) নিয়ে ওয়েস্টমিনিস্টারে চলছে জোর আলোচনা।

সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আইএলআর পাওয়ার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা বজায় রাখলেও, অভ্যন্তরীণভাবে ‘মধ্যপন্থা’ নেওয়ার চাপ বাড়ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে ব্রিটেনে অবস্থান করে অর্থনীতিতে অবদান রাখা অভিবাসীদের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার কিছুটা নমনীয় হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হচ্ছে প্রস্তাবিত আইনের ‘রেট্রোস্পেক্টিভ’ বা অতীত কার্যকারিতা। প্রাথমিকভাবে ধারণা ছিল, বর্তমান ৫ বছরের রুটে থাকা ব্যক্তিদের ওপরও ১০ বছরের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এখন ‘গ্র্যান্ডফাদার ক্লজ’ যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এর ফলে, ২০২৬ সালের আগে স্কিলড ওয়ার্কার বা হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিরা আগের ৫ বছরের নিয়মেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। আর নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ সালের পরের আবেদনকারীদের জন্য ১০ বছরের শর্ত কার্যকর হতে পারে।

সরকারের এই সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চ এমপি ও মন্ত্রিসভার কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের ভূমিকা রয়েছে। তাদের মতে, মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করা অন্যায্য, বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে এনএইচএসসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করছেন।

এছাড়া, উচ্চ-মূল্যের খাত—যেমন গ্রিন এনার্জি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায়—দক্ষ কর্মীদের জন্য ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ পদ্ধতি চালুর কথাও বিবেচনায় রয়েছে। এতে তারা দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।

তবে বিষয়টি এখনও সংবেদনশীল। কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, সংসদীয় ভোট ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দীন সুমন বলেন, হোম অফিস বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মানুষের মতামত পর্যালোচনা করছে। ভবিষ্যতে ‘টু-টিয়ার সেটলমেন্ট সিস্টেম’ চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে অভিবাসন নীতি নিয়ে ব্রিটিশ জনমত বিভক্ত। কেউ কঠোর নিয়ন্ত্রণ চান, আবার কেউ দক্ষ শ্রমিকদের জন্য সহজ শর্তের পক্ষে মত দিচ্ছেন।

কঠোর নীতি ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদার এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই ব্রিটেনের অভিবাসন রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। এখন সবার নজর সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।

 

Leave a Reply

scroll to top