অর্থ মন্ত্রণালয় এখনও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূতাপেক্ষ (পূর্ববর্তী) পদোন্নতি ও পাওনা পরিশোধের পরিমাণ চূড়ান্ত করতে পারেনি। পদোন্নতি ও পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা সরকারের বিশেষ তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের যেকোন সময় পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি ও পদবঞ্চনার শিকার ও অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠন করে বঞ্চনা নিরসন কমিটি। নির্ধারিত সময়ে ১,৫৪০টি আবেদন জমা পড়ার মধ্যে ৭৬৪ জনের পদোন্নতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অনুমোদন করেন।
সচিব পদে ১১৯ জন, গ্রেড-১ পদে ৪১ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, যুগ্ম সচিব পদে ৭২ জন এবং উপসচিব পদে চারজন পদোন্নতি পেয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারের পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার পদোন্নতি ও পাওনা পরিশোধ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে গেছে। তবে পদোন্নতি ও অর্থনৈতিক সুবিধা পরিশোধের চূড়ান্ত হিসাব অর্থ মন্ত্রণালয় এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমিয়ে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানো হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
সরকারি খাতে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য ব্যয় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সাধারণ সেবায় সরকারের ব্যয় প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাওনা পরিশোধ সরকারি বিশেষ তহবিল থেকে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে মূল বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি করে দ্রুত বকেয়া টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে।





