পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্বামী ও শ্বশুরের নামে ধর্ষণ মামলা

New-Project-10-3.jpg
২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

পিরোজপুরের জিয়ানগরে স্ত্রীকে পরকীয়া সম্পর্কে বাঁধা দেওয়ায় মিথ্যে নাটক সাজিয়ে স্বামী ও শ্বশুরের নামে ধর্ষণের মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধুর মায়ের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে  পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ৪নং ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৮নং দক্ষিণ ভবানীপুর ওয়ার্ডের গাজীবাড়িতে। মামলা দয়ের করেছেন উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ওয়ার্ডের দুলাল গাজীর পুত্রবধু তামান্না আক্তাররের (১৫) মা হাজেরা বেগম।

রবিবার (১৬ মার্চ) দিনব্যাপী নানা নাটকীয়তা শেষে সন্ধ্যার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলাটি এজাহারভুক্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মারুফ হোসেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ওয়ার্ডের দুলাল গাজীর পুত্র হৃদয় গাজীর (২১) সাথে একই গ্রামের এচাহাক তালুকদারের মেয়ে তামান্না আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তামান্নার বাড়িতে হৃদয় রাজমিস্ত্রির কাজ করার সুবাদে সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কের একপর্যায়ে চন্ডিপুর কাজীর সহায়তায় গ্রাম্য সরায় গত ২২ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয় এবং পরবর্তীতে তারা কোর্ট এফিডেফিট করেন।

হৃদয়ের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী হৃদয় গাজীর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় পার্শ্ববর্তী বাড়ির বশিরের ছেলে মোরছালিনের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তামান্না। আর এতে তামান্নার মায়ের সহযোগিতাও ছিল বলে অভিযোগ হৃদয়ের পরিবারের।

বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তামান্না ও তার পরিবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদেরকে এহেন কর্ম থেকে ফিরে আসার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি আরোপ করলে, তামান্না ও তার মা হাজেরা বেগম ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা করেন। এরই জেরে রোববার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২ টার দিকে হাজেরা বেগমের নির্দেশমতে হৃদয় ও তার পিতা দুলালকে আপস মীমাংসার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে অনৈতিক প্রস্তাব দেন তামান্ন। এতে রাজি না হলে মিথ্যে অভিযোগে হৃদয় ও তার পিতা দুলালকে থানায় হস্তান্তর করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় গ্রেফতার করেন। সেই মামলার জেরে সোমবার সকালে পিতা-পুত্রকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন থানা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১১টায় হৃদয়ের বাড়ির সামনের সড়কে মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার ও অনতিবিলম্বে পিতা-পুত্রকে নি:শর্ত মুক্তি দিতে হৃদয়ের পরিবার ও এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন কয়েকশত এলাকাবাসী। তাদের দাবি নিজেদের দোষ ঢাকতেই মিথ্যা মামলা দিয়েছেন তামান্না নামের ওই গৃহবধু।

Leave a Reply

scroll to top