পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের আনন্দে মজেছে জাবি শিক্ষার্থীরা

New-Project-30-2.jpg

পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের আনন্দে মজেছে জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি প্রতিনিধি

দীর্ঘ রোজার ক্লান্তি ঝেরে ফেলে বিকেলের দিকে হুট করে প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে থাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)ক্যাম্পাস। কেউ যাচ্ছেন বন্ধুদের সাথে ইফতার কিনতে, কেউবা ব্যস্ত ইফতার প্রস্তুত করতে। এমনই এক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের ইফতার রমজানের আনন্দে যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রার। এই সকল গন-ইফতার উপলক্ষে আনন্দে মজেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ইফতারের পূর্বমুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, সিডনি ফিল্ড , শহীদ রফিক -জব্বার হল চত্বর, টিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া, শহীদ মিনার চত্বর, বটতলা সহ ২১টি হলের বিভিন্ন স্থানে বসছে ইফতারের আসর।
এসব স্থানে বসা বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলাভুনা, বুন্দিয়া, জিলিপি, বিভিন্ন রকমের শরবত এবং বিভিন্ন রকমের ফলমূল।

পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ছেড়ে ঢাকায় আসা এসব শিক্ষার্থীদের কাছে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে করা ইফতার যেন তাদের পরিবারের পরিপূরক হয়ে উঠছে। সাহরির সময়ে সরগরম হয়ে ওঠা কিংবা ইফতারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জানান দিচ্ছে রমজানের আগমনী বার্তার।

বিশ্ববিদ্যালয় ইফতার মাহফিল সম্পর্কে ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন বলেন, “ইফতারের সময়ে পরিবারের শূন্যতাটা বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয় আমাদের সবার। কিন্তু বন্ধুরা এই অভাবটাকে পুষিয়ে দিতে সবটুকু চেষ্টাই করে। এতো প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মাঝে সবমিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতারের অনুভূতি আসলেই সুন্দর। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তচিন্তার আতুরনিবাস। এখানে শিক্ষার্থীদের চিন্তার ক্ষমতায় নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়। দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্ম, সংস্কৃতি, উৎসব, কৃষ্টির মেলবন্ধনের সবচেয়ে উত্তম জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়। আমার চোখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার কর্মসূচি এমনই একটা উৎসব যেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন ঘটে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শহীদ রফিক -জব্বার হলে আবাসিক শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন বলেন’ ” বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নিয়ে করা ইফতার করার ক্ষেত্রে সবাই নিজের সামর্থ্যমতো চাঁদা দিয়ে ইফতার কিনে আনে সবার জন্য। কেউ বা আবার বাসা বা হল থেকে বন্ধুদের সাথে একসাথে খাবে বলে ইফতার নিয়ে আসে। পেপার বিছিয়ে তার উপর সবার ইফতার একসাথে মাখিয়ে আজানের জন্য অপেক্ষা করা। আজান দিতেই সবাই একসাথে খাওয়া শুরু করা। এই অনুভূতি ব্যাখ্যা করা কঠিন, যেনো জান্নাতের সুখ মনে দোলা দিয়ে যায়। “

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের মতে, “পবিত্র রমজান মাস সকলের প্রতি শান্তিরবর্ষণ হয়ে আসে। শুধু রমজানে আমরা সকলেই সকল ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি কিন্তু বাকি ১১ মাস আমরা এর শিক্ষা ভুলে যাই। আমাদের সকলের উচিত রমজান মাসের শিক্ষা গ্রহণ করে সারাবছর সকল অন্যায়, অনিয়ম থেকে নিজেকে সংযত রাখা।”

এ সকল গণ-ইফতার শুধু বন্ধু-বান্ধবের মিলনমেলা নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির স্থাপনও করছে । সম্প্রীতি রক্ষায় ইফতারের অবদান সম্পর্কে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ” বাংলাদেশের দেশীয় সংস্কৃতিতে ইফতার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, হল, টিএসসিভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আমরা সিনিয়র জুনিয়র ভেদাভেদ ভুলে একসাথে ইফতার করি। ধনী-গরিব নির্বিশেষে আমাদের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। অনেক সময় ভিন্ন ধর্মের অনেকে ইফতারে আসেন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষও ইফতারে অংশ নেন। এতে করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে ইফতার মাহফিল একটা সার্বজনীন উৎসবের রূপ নিয়েছে। এভাবেই অদূর ভবিষ্যতে ইফতার আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সুসংহত করবে। শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নয়। ইফতারের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জাবি ক্যাম্পাসে আসছেন সাবেক শিক্ষার্থীরাও।”

Leave a Reply

scroll to top